মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরে আমেরিকার শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের অংশগ্রহণ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লাল গালিচা সংবর্ধনা, সেলফি আর বিলাসবহুল আতিথেয়তার মধ্য দিয়ে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের এক বড় চেষ্টা চালিয়েছেন মার্কিন কর্পোরেট জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তবে সফর শেষে বড় কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি বা দৃশ্যমান অর্জন না থাকায় এই সফরের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিশ্লেষকরা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে বেইজিংয়ের এই শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন টেসলার ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, অ্যাপল, মেটা, বোয়িং, কারগিল এবং গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাজারে গুঞ্জন ছিল—দুই দেশের মধ্যে শত শত বিলিয়ন ডলারের বড় বড় চুক্তি হতে পারে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এবারের পুরো সফরে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ঘোষণা এসেছে বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে। চীন মার্কিন এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০টি বিমান কেনার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তবে ২০১৭ সালে ট্রাম্পের আগের চীন সফরের তুলনায় এটি বেশ কম, সেবার প্রায় ৩০০টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছিল। অন্যদিকে বর্তমান প্রযুক্তির সবচেয়ে আলোচিত খাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে মেলেনি কোনো সুখবর। এনভিডিয়ার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এআই চিপ চীনের বাজারে বিক্রির অনুমতি পাওয়ার বিষয়ে বেইজিং বা ওয়াশিংটন কোনো পক্ষই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য তাৎক্ষণিক কোনো বড় চুক্তি সইয়ের চেয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের তৈরি হওয়া অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে আস্থা ও কূটনৈতিক বোঝাপড়া তৈরি করা। কিছু আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, চীন এই ধরনের হাই-প্রোফাইল সম্মেলনকে শুধু তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক লাভের দৃষ্টিতে দেখছে না, বরং এটিকে তারা আমেরিকার সাথে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক গড়ার চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে।
তবে আশঙ্কার কথা হচ্ছে, পর্যাপ্ত বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য না এলে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে। এর ফলে মার্কিন নীতিতে পরিবর্তন আসলে ভবিষ্যতে দুই পরাশক্তির সম্পর্ক আবারও চরম উত্তেজনার দিকে মোড় নিতে পারে। অবশ্য অনেক মার্কিন ব্যবসায়ী এখনো চীনে অবস্থান করে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন, ফলে আগামীতে নতুন কোনো চুক্তি বা অগ্রগতির সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়া যাচ্ছে না।
