সবজি ও ডিমের বাজারে নতুন আগুন: মধ্যবিত্তের পকেটে টান, দিশেহারা ক্রেতা
Featured, Health, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #DhakaMarket, #InflationBangladesh, #MarketFire, #MiddleClassCrisis, #PriceHikeচাল, ডাল ও তেলের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির পর এবার নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে সবজি ও ডিমের বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীসহ সারা দেশের কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় বাজার করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষ। বাজারে গিয়ে পকেটের হিসাব মেলাতে না পেরে খালি হাতে কিংবা আধা-খালি ব্যাগ নিয়ে ঘরে ফিরছেন মধ্যবিত্তরা। বিশ্লেষকদের মতে, বাজার নিয়ন্ত্রণে এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এই তীব্র মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর, মহাখালী ও সূত্রাপুরসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দামই এখন ‘সেঞ্চুরি’ (১০০ টাকা) পার করেছে। কেজিপ্রতি সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকার রেকর্ড মূল্যে।
এক নজরে কাঁচাবাজারের দরদাম:
- গোল বেগুন, কাঁকরোল ও গাজর: ১২০ টাকা (প্রতি কেজি)
- লম্বা বেগুন, শসা, করলা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা ও পেঁপে: ১০০ টাকা (প্রতি কেজি)
- বরবটি ও পটোল: ৮০ টাকা (প্রতি কেজি)
- কাঁচা মরিচ: ১৬০ টাকা (প্রতি কেজি)
- লাউ: ১০০ টাকা (প্রতি পিস)
- জালি কুমড়া: ৭০ টাকা (প্রতি পিস)
সবজির পর মধ্যবিত্তের প্রোটিনের শেষ ভরসা ডিমের বাজারেও লেগেছে বড় ধাক্কা। গত সপ্তাহের তুলনায় ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি একলাফে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। বাজারে প্রতি ডজন ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়।
মাছ-মাংসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক আগেই। এখন ডিম ও সবজির দামও সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পুষ্টিহীনতার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ভিটামিনের জোগান দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আয়ের সাথে ব্যয়ের মিল না থাকায় সাধারণ চাকরিজীবী ও দিনমজুররা বাধ্য হয়ে চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা এবং অন্যান্য জরুরি খরচ কমিয়ে খাবারের পেছনে ব্যয় করছেন। মাসের অর্ধেক পার হতেই পকেট খালি হয়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্য কিনতে অনেকে চড়া সুদে ঋণ নিচ্ছেন কিংবা জমানো সঞ্চয় ভাঙছেন।
বাজারে আসা ক্ষুব্ধ ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে সরকারের কোনো কার্যকর তদারকি বা মনিটরিং নেই। সিন্ডিকেট চক্র ও অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। বাজারে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাজারে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এভাবে চললে না খেয়ে মরা ছাড়া উপায় নেই।”
তবে বরাবরের মতোই দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন বিক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের দাবি—দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে। সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙা এবং কঠোর ও নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
