পিঠে ছুরি মারলো নিজের লোকেরাই, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
News #abongtv, #BritishPrimeMinister, #DowningStreet, #KeirStarmer, #LabourParty, #uknews, #UKPoliticsদলের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ ও একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগের মুখে অবশেষে ক্ষমতা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তবে তড়িঘড়ি করে নয়, বরং সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করে মর্যাদার সঙ্গে তিনি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বিদায় নিতে চান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’-এর এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দাবি করা হয়েছে।
ডেইলি মেইলের রাজনৈতিক প্রতিবেদক ড্যান হজেস মন্ত্রিসভার এক সদস্যের বরাত দিয়ে জানান, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে পেরেছেন। তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন যে, চলমান এই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা আর বেশি দিন চলতে দেওয়া যায় না। তাই তিনি নিজের ইচ্ছেমতো সময়ে পদত্যাগের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করবেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক সপ্তাহ ধরে ডাউনিং স্ট্রিটের অন্দরমহলে চরম নাটকীয়তা চলছে। সোমবার রাতে একের পর এক জুনিয়র মন্ত্রীর পদত্যাগের পর সরকার যখন টালমাটাল, তখনই স্টারমার বুঝতে পারেন যে তার বিদায় অনিবার্য। এরপরই তিনি প্রবীণ মন্ত্রীদের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ও তার ঘনিষ্ঠ শিবিরের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্রমাগত আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালানো হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এমনকি স্টারমারের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কৌশলবিদ এবং ‘লেবার টুগেদার’-এর ডিরেক্টর জশ সাইমন্স ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকায় এক নিবন্ধ লিখে বসেন যে, দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা হারিয়েছে এবং নতুন নেতার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা উচিত। এই ঘটনা স্টারমারকে গভীরভাবে আঘাত করে।
এদিকে, ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের পার্লামেন্টে ফেরার লড়াইকে কেন্দ্র করে লেবার পার্টির ভেতরের সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ১৮ জুন মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে বার্নহ্যামের জয় নিশ্চিত করতে ডাউনিং স্ট্রিটের সব চেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন ডেপুটি লিডার লুসি পাওয়েল। অন্যদিকে, চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর কৃতিত্বকে পাশ কাটিয়ে নিজেকে হাইলাইট করায় মন্ত্রিসভার ফাটল প্রকাশ্যে চলে আসে। এর পরপরই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগ স্টারমার সরকারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়।
১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রকাশ্যে দুই-একজন প্রবীণ মন্ত্রী স্টারমারকে সমর্থনের নাটক করলেও, পর্দার আড়ালে তারা এমপিদের উসকে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলতে। একই সঙ্গে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় নিজেদের পদ পাকা করতে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের সঙ্গে গোপন দরকষাকষিও শুরু করেছেন অনেকে।
লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের একগুঁয়ে স্বভাবের জন্য তাকে ‘কই মাছের প্রাণ’ বলে অবিহিত করা হতো। কিন্তু মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যদের একের পর এক ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং খোদ ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মকর্তাদের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীও এখন বুঝতে পেরেছেন, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো পথ অবশিষ্ট নেই।
