গাজায় মানবিক সাহায্য নিয়ে যাওয়ার পথে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়া সাহায্যকারী নৌবহরের (ফ্লোটিলা) দক্ষিণ কোরিয়ার দুই অধিকারকর্মীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র কাং ইউ-জুং এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অধিকারকর্মী কিম আহ-হিউন এবং জোনাথন ভিক্টর লি-র মুক্তির বিষয়টি ঘোষণা করেন। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা দিয়ে গাজায় যাওয়ার সময় একটি সাহায্যবাহী নৌযান থেকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের আটক করেছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইয়োনহাপ’-এর বরাতে মুখপাত্র কাং জানান, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ আটক এই দুই দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিককে কোনো ডিটেনশন বা বন্দিশালায় না পাঠিয়ে অবিলম্বে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। ইতিমধ্যে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ আরও জানায়, নাগরিকদের আটকে রাখার ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান লি জে মিউং (Lee Jae-myung)-এর সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। মুখপাত্র কাং বলেন, “লি জে মিউংয়ের সরকার আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় নৌযান জব্দের সময় আমাদের নাগরিকদের ইসরাইল কর্তৃক আটকে রাখার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির মাঝে আমাদের নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য ইসরাইলের এই দ্রুত পদক্ষেপকে উচ্চ মূল্যায়ন করছে এবং এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, গাজায় ইসরাইলি অবরোধের মুখে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের অধিকারকর্মীরা নৌপথে সাহায্য পাঠানোর যে চেষ্টা চালাচ্ছেন, এই আটক ও মুক্তির ঘটনা তারই একটি অংশ। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক চাপের কারণেই তেল আবিব তাদের দ্রুত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *