ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরায় বিদ্যুৎ সংযোগ: ওজোপাডিকোর ২৮ কিমি সাবমেরিন কেবল প্রকল্পের আন্তর্জাতিক টেন্ডার
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #BholaNews, #MonpuraIsland, #PowerDivisionBD, #SubmarineCableTender, #WZPDCLProjectভোলার বিচ্ছিন্ন ও প্রত্যন্ত দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বড় ধরনের মেগা উদ্যোগ নিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)। এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের আওতায় সাগরের তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেবল ও দ্বীপে ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের জন্য আন্তর্জাতিক মানের দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ওজোপাডিকোর যৌথ উদ্যোগ ‘মনপুরা দ্বীপপুঞ্জে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় এ দরপত্র আহ্বান করা হয়।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, টার্নকি (Turnkey) ভিত্তিতে ৩৩ কেভি সাবমেরিন কেবলের নকশা, সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষণ ও কমিশনিং সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে। এই মেগা প্রকল্পে প্রতিটি ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪টি রান সহ মোট ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ (১সি. ৩০০ বর্গমিলিমিটার) সাবমেরিন কেবল স্থাপন করা হবে। এর সঙ্গে মনপুরায় একটি অত্যাধুনিক ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের কাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওজোপাডিকোর নিজস্ব তহবিল থেকে সম্পূর্ণ অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে এবং দরপত্রটি ‘ওয়ান স্টেজ টু এনভেলপ টেন্ডারিং মেথড’ পদ্ধতিতে আহ্বান করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক দরদাতাদের জন্য কড়া শর্তারোপ করা হয়েছে। আগ্রহী ঠিকাদারদের বিগত ১০ বছরের মধ্যে কমপক্ষে দুটি অনুরূপ প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একইসঙ্গে অন্তত একটি প্রকল্প বিদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশের অনুরূপ ক্রান্তীয় জলবায়ু (Tropical Climate) অঞ্চলে বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া দরদাতাকে সাবমেরিন কেবল স্থাপনে ব্যবহৃত বিশেষায়িত জাহাজের মডেল, ধরন ও সক্ষমতার শতভাগ প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
ভোলা ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকল্পের সময়সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, এই স্থায়ী ও মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে অন্তত ৪ থেকে ৫ বছর সময় লেগে যেতে পারে। তবে আগামী ডিসেম্বরে চরফ্যাশন থেকে মনপুরা পর্যন্ত সরাসরি সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে স্থায়ী সাব-স্টেশন স্থাপনের মূল কাজ শুরু হবে।
এর পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় অন্য একটি কোম্পানি বিকল্প উপায়ে কাজ করছে। ভোলার তজুমদ্দিন থেকে চর জহিরুদ্দিন হয়ে, চর মোজাম্মেল এবং চর কলাতলী হয়ে মনপুরায় বিদ্যুৎ নেওয়ার একটি চেষ্টা চলছে, যার মাধ্যমে দ্রুতই কিছু এলাকায় আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এই আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে যোগ্য কোম্পানি নির্বাচিত হয়ে ওজোপাডিকোর স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মনপুরার বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হবে। দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত কয়েক লাখ মনপুরা দ্বীপবাসী উন্নত, স্থিতিশীল ও আধুনিক বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় আসবে।
