রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) কোনো আইনজীবী অংশ নেবেন না। কার্যনির্বাহী কমিটির বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো সদস্যই এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের আসামিদের আইনি সহায়তা দেবেন না বা তাদের পক্ষে ওকালতি করবেন না।
আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে এই কঠোর ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ কালাম খান।
তিনি তার পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা বারের কোনো বিজ্ঞ আইনজীবী রামিসা হত্যা মামলার আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন না।” আইনজীবীদের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষ।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবী সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে এই হত্যাকাণ্ডের যে ভয়ঙ্কর ও লোমহর্ষক বিবরণ পাওয়া গেছে, তা পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
ঘটনার দিন সকালে রামিসা বাসা থেকে বের হওয়ার পর পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা তাকে ফুসলিয়ে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে ঘরের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমে রাখা একটি প্লাস্টিকের বালতির ভেতর থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে।
নৃশংস এই কাণ্ড ঘটানোর পর স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ফ্ল্যাট ঘেরাও করে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রাখলেও, মূল ঘাতক সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই দিন (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে মাথা কেটে হত্যার দায় স্বীকার করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক সোহেল রানা।
আইনজীবীদের এই সম্মিলিত বয়কটের ফলে মামলার বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ কার্যকর করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনবিদরা।
