১ বছরে দেশে এইডস রোগী বেড়েছে ৩৯%, বরিশালের চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক
Featured, Latest, News, Popular, Trending #abongtv, #AIDSAwareness, #BarisalNews, #HealthAlertBD, #HIVUpdate, #ShebaChim, #YouthHealthবরিশালে এইচআইভি (এইডস) সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যাও বেড়েছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই তরুণ এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষের রক্ত পরীক্ষা করে ২০ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়। যার মধ্যে ১১ জনই শিক্ষার্থী। তবে এর পরবর্তী চিত্র আরও ভয়াবহ। ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর—এই দুই মাসেই মাত্র ২০৪ জনের রক্ত পরীক্ষা করে ১১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। আক্রান্তদের একজনের স্ত্রীর শরীরেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ মিলেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের বড় একটি অংশের বয়স ১৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। চিকিৎসকদের ভাষ্য ও রোগীদের কাউন্সেলিং থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্তদের অধিকাংশেরই পুরুষের সঙ্গে পুরুষের অনিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ যৌনসম্পর্কের (MSM) ইতিহাস রয়েছে।
শেবাচিম হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের চিকিৎসক জসিম উদ্দিন জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে যাদের এইচআইভি পজিটিভ এসেছে, তাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই সমলিঙ্গের পুরুষের সাথে সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সমকামী ব্যক্তির সংখ্যা সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মাশরুর বিন আজাদ। তিনি বলেন, “আগে এই অঞ্চলে সংক্রমণের হার কম থাকলেও এখন ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণের কারণে রোগী বাড়ছে।”
এদিকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, বরিশালে ৫ থেকে সাড়ে ৭ হাজারের মতো মানুষ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত। দেশজুড়ে এইডস প্রতিরোধে সরকারি কর্মসূচি চললেও তা মাঠপর্যায়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কতটুকু ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, গত এক বছরে দেশে প্রায় দুই হাজার নতুন এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি।
তরুণদের এই ঝুঁকিতে পড়ার পেছনে পারিবারিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়া এবং সামাজিক অবক্ষয়কে দায়ী করছেন বিশ্লেষকেরা। সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. ইব্রাহিম খলিল বলেন, “পারিবারিক ও সামাজিক তদারকি কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ প্রভাব তরুণদের আচরণগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। এদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এখন জরুরি।”
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, “এইচআইভি সংক্রমণ হঠাৎ করে বাড়ে না, এটি দীর্ঘ সময় ধরে ছড়ায়। শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, সচেতনতা ও পরীক্ষা না বাড়ালে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার বড় আশঙ্কা রয়েছে।”
