মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এবার আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা একটি ‘শত্রু ভাবাপন্ন’ চালকবিহীন ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ‘মেহের’ আজ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর সামরিক সফলতার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। তবে ভূপাতিত করা ড্রোনটি সুনির্দিষ্টভাবে কোন দেশের এবং এর ধরন কেমন—তাৎক্ষণিকভাবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া এই ছায়াযুদ্ধে ইরানের সমন্বিত ও অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক (Air Defense Network) নজিরবিহীন কার্যকারিতা প্রদর্শন করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) ড্রোনসহ একাধিক উন্নত মার্কিন ও ইসরাইলি নজরদারি ও আত্মঘাতী ড্রোনের বিরুদ্ধে একের পর এক আকাশসীমায় ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ইরানি বাহিনী।
তেহরানের আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করার পাশাপাশি এবার সরাসরি ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডে বড় ধরনের প্রত্যাঘাত করেছে ইরান। জানা গেছে, ইরানের একটি কৌশলগত পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় চালানো ‘আমেরিকান-ইসরাইলি’ যৌথ বিমান হামলার সরাসরি জবাব দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইসরাইলের অন্যতম প্রধান বন্দর নগরী হাইফাতে (Haifa) অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক কারখানাকে লক্ষ্যবস্তু করে একের পর এক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি)। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হাইফার ওই রাসায়নিক কারখানায় তীব্র বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
হাইফায় সফল হামলার পর এক বিবৃতিতে আইআরজিসি ইসরাইল ও তার প্রধান সহযোগী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরানি বাহিনী স্পষ্ট করে বলেছে, এই অঞ্চলের বা ইরানের কোনো বেসামরিক নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও খনিজ স্থাপনাগুলোতে যদি নতুন করে আর কোনো হামলা চালানো হয়, তবে তার জন্য সমগ্র বিশ্বকে এক মারাত্মক ও দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। জ্বালানি বাজারে ধস ও আন্তর্জাতিক নৌপথ অবরুদ্ধ করার পরোক্ষ ইঙ্গিত দিয়ে তেহরান এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
সূত্র: বার্তা সংস্থা মেহের
