ইরান সরকারের সঙ্গে চুক্তি না করে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান, বিশ্বনেতাদের প্রতি শাহ-পুত্র রেজা পাহলভীর আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে যখন ব্যাপক তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনো ধরনের সমঝোতা করার তীব্র বিরোধিতা করেছেন ইরানের শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি। বর্তমান সরকারের সঙ্গে চুক্তি করার পরিবর্তে তিনি ইরানের ভেতর চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের খোলাখুলি সমর্থন করার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম শাফাক নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

লন্ডনে ব্রিটিশ আইনপ্রণেতাদের (পার্লামেন্ট সদস্য) সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি এই আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানান। রেজা পাহলভী স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান ইরানি সরকারের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সমঝোতা বা চুক্তি করা একটি চরম ভুল সিদ্ধান্ত হবে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক পরিণতি ভবিষ্যতে পুরো বিশ্বকে ভোগ করতে হবে।

৬৫ বছর বয়সী রেজা পাহলভী ব্রিটিশ আইনপ্রণেতাদের সামনে দাবি করেন, প্রায় ৪৭ বছর ধরে ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী বা সরকার নিজেদের দেশের সাধারণ জনগণের সঙ্গেই প্রতিনিয়ত সংঘাতে জড়িত রয়েছে। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, যে সরকার বিগত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূল্যায়ন করতে পারেনি বা নিজের জনগণের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করতে পারেনি, তারা বাইরের বিশ্বের সঙ্গেও কোনোদিন প্রকৃত অর্থে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে না।

তিনি আরও যোগ করেন, “ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে এই শাসকগোষ্ঠীর অঘোষিত যুদ্ধ দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে চলছে। তারা যেমন নিজেদের জনগণের অধিকারের প্রশ্নে কখনো সমঝোতা করেনি, তেমনি বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গেও কখনো প্রকৃত বা টেকসই সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে না।”

ইরানের এই নির্বাসিত রাজপরিবারের নেতার কড়া বিরোধিতার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিটি ইতিমধ্যেই সফলভাবে তার দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট চুক্তির মূল লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রধান এবং একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ইরান যেন কোনো অবস্থাতেই বা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, এই চুক্তির বাইরে গিয়ে যদি ইরান গোপনে বা প্রকাশ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সামান্যতম চেষ্টাও করে, তবে দেশটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর ও মারাত্মক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইরানের শাহ-পুত্রের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের পারমাণবিক চুক্তি পরিস্থিতি এখন আরও জটিল মোড় নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *