উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খোলা
Featured, Latest, News, Popular, Trending, Weather #abongtv, #BangladeshNews, #DaliaPoint, #FarmersConcern, #FloodAlertBD, #NationalNewsBD, #NaturalDisasterBD, #TeestaBarrage, #TeestaRiver, #WaterDevelopmentBoard, #WaterLevelRiseউজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের কারণে হঠাৎ করেই তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে৷ এতে নদীর দুই তীর উপচে চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আবাদি জমি ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ হঠাৎ নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও সাধারণ কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে৷ গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল৷ উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই (স্লুইস গেট) পুরোপুরি খুলে রাখা হয়েছে৷
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে৷ শুক্রবার সকাল থেকেই উজানের ঢলের প্রভাবে নদীর পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকে৷ সকাল ৯টায় পানি বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও দিনভর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ৫১ দশমিক ৯৫ মিটারে পৌঁছায়৷ ওই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ধরা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৫ মিটার৷
এদিন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে দোয়ানির অবসরে এক গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সভায় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর পানি বিশেষজ্ঞ দল এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও পানি বিশেষজ্ঞরা৷ সভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি, নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা ও নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার এবং তিস্তা অববাহিকার টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়৷ ঠিক এই গুরুত্বপূর্ণ সভার চলাকালীন সময়েই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তিস্তার পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে৷
নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের প্রভাবেই পানির এই আকস্মিক বৃদ্ধি ঘটেছে৷ চরাঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীতে পলি ও বালু জমে তলদেশ পুরোপুরি ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন সামান্য পানি বৃদ্ধিতেই নদী উপচে আশপাশের ফসলি জমিতে পানি ছড়িয়ে পড়ছে৷ খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের টাপুরচর এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক হযরত আলী বলেন, “নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় হঠাৎ পানি বাড়লেই চরের আবাদি জমি তলিয়ে যায়৷ বর্তমানে জমিতে চিনা বাদামসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি রয়েছে৷ এই পানি যদি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়, তবে ফসলের ব্যাপক ও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে৷”
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, “উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি অত্যন্ত দ্রুত বাড়ছে৷ রাতে পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে৷ তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে৷” এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে৷ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং অব্যাহত রেখেছে৷
