সাঘাটায় শিবির নেতা নিহতের ঘটনায় ইউনিয়ন যুবদল আহ্বায়ক মুকুল বহিষ্কার, দায় নেবে না দল
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #CrimeUpdateBD, #GaibandhaCrime, #MokhlesurRahmanMukul, #PoliticalViolence2026, #SaghataMurderCase, #SchoolCommitteeDispute, #ShibirLeaderKilled, #YouthWingExpulsionগাইবান্ধার সাঘাটায় প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাতে ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুলকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে জেলা যুবদল৷ গতকাল রোববার (২১ জুন) রাতে এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে৷
গাইবান্ধা জেলা যুবদলের সভাপতি রাগিব হাসান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ভুট্টো যৌথভাবে এই বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করেছেন৷ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সকল স্তর থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে৷ একই সাথে যুবদলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷
অপরাধীদের দল যুবদল নয়: এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা যুবদলের সভাপতি রাগিব হাসান চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দলের নাম বা পদবি ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের অপকর্ম বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে, তার কোনো দায়-দায়িত্ব দল নেবে না৷ অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আগামীতেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷ কারণ অপরাধী কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হতে পারে না৷ আমরা সাধারণ মানুষের অধিকারের দল করি, অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার দল যুবদল নয়৷”
স্কুল কমিটি নিয়ে বিরোধ থেকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার বিকেলে সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন করার বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়ার তীব্র কথার কাটাকাটি ও বাগ্বিতণ্ডা হয়৷ ওই সময় সেখানে উপস্থিত বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী ও শিবির কর্মী সালাউদ্দিন এই ঘটনার অন্যায্যতার তীব্র প্রতিবাদ জানান৷ পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেওয়া হলে সবাই উপজেলা চত্বর থেকে চলে যান৷
তবে এই ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিট পর বোনারপাড়া টু সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ ও কর্মী সালাউদ্দিন৷ ঠিক তখনই বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল ও জব্বারসহ ১০ থেকে ১৩ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ দল ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আচমকা তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়৷
হামলাকারীরা প্রথমে শিবির কর্মী সালাউদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় গুরুতর আঘাত করে৷ এ সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তার ওপর ফেলে দেয় এবং গলায় ছুরি দিয়ে নৃশংসভাবে আঘাত করে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়৷
হাসপাতালে একজনের মৃত্যু, অন্যজন আশঙ্কাজনক: পরে স্থানীয় জনতা রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান৷ সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বোনারপাড়া ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকে মৃত ঘোষণা করেন৷ এই ঘটনায় গলায় গুরুতর জখম হওয়া অপর শিবির কর্মী সালাউদ্দিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে৷
