চীনের সিচুয়ান প্রদেশে ৫.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত; কাঁপল রাজধানী চেংদু

লাতিন আমেরিকার ভেনেজুয়েলায় প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্পের ক্ষতের মাঝেই এবার এশিয়ার পরাশক্তি চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশে আঘাত হেনেছে এক শক্তিশালী ভূমিকম্প৷ রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পের পর পরই আক্রান্ত অঞ্চলে তৃতীয় স্তরের জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির জাতীয় ভূমিকম্প প্রশাসন৷ তীব্র কম্পনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহুতল ভবনসহ ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র প্রবলভাবে নড়তে শুরু করে৷

আজ সোমবার (২৯ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১২ মিনিটে সিচুয়ান প্রদেশের ইবিন শহরের গাওসিয়ান কাউন্টিতে এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে চীন ভূমিকম্প নেটওয়ার্কস সেন্টার (CENC)৷

ভূমিকম্পের কেন্দ্র ও তীব্রতা: চীন ভূমিকম্প নেটওয়ার্কস সেন্টারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী— ভূমিকম্পটির সুনির্দিষ্ট উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর অক্ষাংশ ২৮ দশমিক ৫০ ডিগ্রি এবং পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ১০৪ দশমিক ৬৯ ডিগ্রিতে৷ ভূ-তাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, মাটির নিচে মাত্র ৬ কিলোমিটার গভীরতায় এই কম্পনটির উৎপত্তি হওয়ায় এর তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হয়েছে৷ ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল গাওসিয়ান ও এর পার্শ্ববর্তী গংশিয়ান কাউন্টির বাসিন্দারা সবচেয়ে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেছেন৷ এ ছাড়া ইবিন শহর এবং সিচুয়ান প্রদেশের প্রধান রাজধানী চেংদুতেও কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পন স্পষ্ট অনুভূত হয়েছে৷

হতাহত ও জরুরি ব্যবস্থা: গাওসিয়ান কাউন্টির একজন শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান— ভূমিকম্পের ঠিক পর পরই স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো মাঠে নেমেছে এবং পুরো কাউন্টিতে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক প্রভাব মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে৷ তবে গভীর রাত হওয়ায় বা প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত কিংবা বড় ধরনের ধসের খবর পাওয়া যায়নি৷

উল্লেখ্য, চীনে আকস্মিক ভূমিকম্প মোকাবিলা ও জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় চার স্তরের একটি সুনির্দিষ্ট জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা রয়েছে৷ এর মধ্যে প্রথম স্তরকে সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷ বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সিচুয়ান প্রদেশের সংশ্লিষ্ট কাউন্টিগুলোতে তৃতীয় স্তরের উদ্ধার ও সতর্কতামূলক প্রস্তুতি কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ৷

সূত্র : ডেইলি চায়না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *