চলমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উত্তেজনার মাঝেই নিজেদের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে একটি অলঙ্ঘনীয় এবং পবিত্র সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান৷ দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে কোনো ধরণের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বা আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান৷
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবনে আল-রেজা দেশের সামরিক নীতি ও কৌশলগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন৷
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কঠোর অবস্থান: ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবনে আল-রেজা তেহরানে এক রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে বলেন— “ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও সর্বাধুনিক ড্রোন সক্ষমতা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি অলঙ্ঘনীয় সীমা৷ এই কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো পক্ষের সাথে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সংলাপে বসা হবে না এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না— যা এখন বা ভবিষ্যতেও কার্যকর থাকবে৷” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হুমকি উপেক্ষা করেই ইরানের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির আধুনিকায়ন কর্মসূচি রানিং গতিতে সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে৷
বাহরাইন সংলাপ প্রত্যাখ্যান ও হরমুজ প্রণালির হুংকার: এদিকে প্রতিরক্ষা খাতের এই কঠোর বার্তার পাশাপাশি সম্প্রতি বাহরাইনে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংলাপ’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান ও বর্জন করেছে ইরান৷ এই নিরাপত্তা সংলাপের তীব্র সমালোচনা করে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন— বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ কোনো মার্কিন বা পশ্চিমা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেই, এর একক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে৷ সুতরাং এই অঞ্চলের সুরক্ষার নামে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না৷
গারিবাবাদি আরও যোগ করেন— “মধ্যপ্রাচ্য তথা এই অঞ্চলের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে বহিরাগত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, এলাকা থেকে সমস্ত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে, এই অঞ্চলের স্বাধীন দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে এবং নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিতে হবে৷ মার্কিন সামরিক ছত্রছায়ায় বা পেন্টাগনের অধীনে মধ্যপ্রাচ্যে কোনোদিনও প্রকৃত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়৷” আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পরও ইরানের সামরিক অবস্থান ও আমেরিকার প্রতি তেহরানের নীতি যে বিন্দুমাত্র নরম হচ্ছে না, ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য তারই প্রমাণ৷
সূত্র: ডন
