ভূ-কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরব সাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি সর্বাধুনিক ‘এমএইচ-৬০এস সি হক’ (MH-60S Sea Hawk) সামরিক হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণ করেছে৷ আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারটিতে থাকা চার সদস্যের দক্ষ ক্রু দলের মধ্যে তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজন এখনও পর্যন্ত সাগরের উত্তাল তরঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন৷
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (ন্যাভসেন্ট-NAVCENT) বাহরাইন সদর দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে৷
হামলার আলামত নেই, উদ্ধার কার্যক্রম রানিং: নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে— প্রাথমিক অনুসন্ধান ও রাডার ডাটা বিশ্লেষণ করে হেলিকপ্টারটিতে শত্রুপক্ষের কোনো ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র বা সাইবার হামলার আলামত পাওয়া যায়নি৷ মূলত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এটি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল৷
ন্যাভসেন্ট জানায়— মার্কিন নৌবাহিনীর আইকনিক বিমানবাহী পরাশক্তি রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ’ (CVN-77) থেকে একটি নিয়মিত টহল ও নজরদারি মিশনের অংশ হিসেবে হেলিকপ্টারটি ওড়ার কিছুক্ষণ পরই আরব সাগরে আছড়ে পড়ে বা জরুরি অবতরণ করে৷ ঘটনার পর পরই রণতরী থেকে অন্য রেসকিউ টিম দ্রুত স্পটে গিয়ে তিন ক্রু সদস্যকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বুশ রণতরীর হাসপাতালে নিয়ে আসে৷ বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা স্থিতিশীল ও শঙ্কামুক্ত আছেন৷
সাগরে চিরুনি তল্লাশি ও তদন্ত কমিটি: এদিকে সাগরের তীব্র স্রোতের কারণে নিখোঁজ হওয়া চতুর্থ ক্রু সদস্যকে জীবিত উদ্ধারে ওই বিশাল সমুদ্র এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, সাবমেরিন ও নজরদারি ড্রোন ইউনিট একযোগে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে৷ অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সুরক্ষিত এই এমএইচ-৬০এস সি হক হেলিকপ্টারটি ঠিক কী ধরণের প্রযুক্তিগত বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হলো, তা নিখুঁতভাবে জানতে পেন্টাগনের উচ্চপর্যায়ের একটি সামরিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং পুরোদমে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ন্যাভসেন্ট৷
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
