ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত ২৪শে জুন আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ও প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে৷ সর্বশেষ প্রাপ্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী— এই জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৬৪৫ জনে পৌঁছেছে৷ এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এবং বিভিন্ন ভবনের নিচে আটকা পড়ে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ হাজার ৬৬৬ জন সাধারণ নাগরিক৷
গতকাল শুক্রবার ভেনেজুয়েলার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজ এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিশ্চিত করা হয়েছে৷
উপকূলীয় রাজ্যে লা গুয়াইরা ধ্বংসস্তূপ: রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার চেয়েও বেশি শক্তির এই দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের জেরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের উত্তরের উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে৷ ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে এই রাজ্যে ১৮৯টি বহুতল ভবন পুরোপুরি ধসে মাটির সাথে মিশে গেছে এবং মোট ৮৮৫টি ভবন আংশিক বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ সরকারি হিসাব মতে— প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মুহূর্তের মধ্যে নিজের ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন৷ দুর্গতদের জন্য জরুরি আশ্রয় শিবির স্থাপন করা হলেও সেখানে রানিং গতিতে বাড়ছে খাদ্য ও পানীয়র সংকট৷
পুনর্গঠনে ২০ কোটি ডলারের তহবিল: ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশের এই জাতীয় সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর জরুরি পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কাজের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ২০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন৷ তিনি এক সরকারি সংবাদ সম্মেলনে জানান— আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ভেনেজুয়েলা সরকার আপদকালীন খাত হিসেবে যে অর্থ পাওয়ার আশা করছে, সেখান থেকেই এই বিশাল পুনর্বাসন তহবিলের অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে৷
জোরদার হয়েছে আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা: ভেনেজুয়েলার এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের পর বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সংহতি ব্যাপকভাবে জোরদার হয়েছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) তাদের ১৪টি সদস্য দেশের দক্ষ উদ্ধারকারী দল এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ও ত্রাণের সমন্বয় করছে৷ এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ মেক্সিকো ইতিমধ্যে বিশেষ অনুসন্ধান ও কুকুরের স্কোয়াডসহ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া ভেনেজুয়েলার এই সংকটে বড় ধরণের মানবিক ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে৷
বর্তমানে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের (Red Cross) সরাসরি তত্ত্বাবধানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও অস্থায়ী আশ্রয় সামগ্রী বা তাবু দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে৷ নিখোঁজদের সন্ধানে ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে রানিং উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস৷
