জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় দুই বিচারকের যৌথ ভাড়া বাসায় জানালার গ্রিল কেটে প্রায় ১৯ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, হিরের আংটি ও নগদ টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ৷ এই আন্তর্জাতিক মানের দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই শীর্ষ নেতাসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ প্রশাসন৷
গতকাল শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জামালপুর আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন৷ চুরির মূল রহস্য উদ্ঘাটন, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং এই সিন্ডিকেটের পলাতক অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে গ্রেপ্তারকৃত ৪ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ৷
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়: গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক সুমন মিয়া (৩৯), সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯), চুরির কাজে ব্যবহৃত ভ্যানচালক চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁন (৫০), একই ভবনের গৃহকর্মী নিলুফা (৩২) এবং বিচারকের বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগম (৩০)৷
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিলুফার বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামে, হাওয়া বেগমের বাড়ি সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়া গ্রামে, চাঁন মিয়ার বাড়ি শহরের আমলাপাড়া এলাকায়, সুমন মিয়ার বাড়ি পৌর শহরের গোলাপবাগ এলাকায় এবং নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লবের বাড়ি শহরের কলেজ রোড এলাকায়৷
মামলার এজাহার ও ঘটনার বিবরণ: মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়— জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমাদুল কবির সাকিল ও বিচারক নুসরাত জেরিন জেনী দম্পতি গত সাত মাস ধরে জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন৷ তারা যথাক্রমে মেলান্দহ ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন৷
গত ৩০শে জুন বিকেলে বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল তার স্ত্রীকে জামথল ঘাটে পৌঁছে দিয়ে রাতে বাসায় ফিরে এসে ফ্ল্যাটের মূল দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান৷ পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা শয়নকক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, হিরের আংটিসহ মোট ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৩ টাকার মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে৷ ঘটনার পরদিন জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা একেএম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন৷
তদন্তের অগ্রগতি ও পুলিশের বক্তব্য: তদন্তের রানিং একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী নিলুফাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ তার দেওয়া বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে বিচারকের বাসার নিজস্ব গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে আটক করা হয়৷ পরে তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে একই রাতে অভিযান চালিয়ে জেলা শহর থেকে বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়৷
জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন— “গ্রেপ্তার সুমন ও বিপ্লব জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আগের কমিটিতে ছিলেন৷ বর্তমানে দলের রানিং কোনো কমিটিতে তাদের কোনো পদ নেই৷”
জামালপুর থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান— প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন৷ চুরির মূল পরিকল্পনাকারী, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করতে চারজনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে৷ এছাড়া গৃহকর্মী নিলুফা আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন৷ এলাকায় চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে রানিং অভিযান অব্যাহত রয়েছে৷
