ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে প্রতিনিয়ত ভয়াবহ হামলা ও সহিংসতা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বিমান ও স্থলবাহিনী৷ গাজায় দীর্ঘ রানিং আগ্রাসনে মোট নিহতের সংখ্যা এবার এক নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে৷ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় মোট ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭৩ হাজার ৯৮ জনে পৌঁছেছে৷ একই সময়ে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ ও গুলিতে আহত ও পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭১ জন নিরপরাধ ফিলিস্তিনি নাগরিক৷

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার প্রাণহানির পরিসংখ্যান: গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ দৈনিক হালনাগাদ ও রানিং প্রতিবেদনে এই চরম উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে৷ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় অবরুদ্ধ উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে নতুন করে চালানো ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় আরও পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন৷ এ ছাড়া উদ্ধারকারী দলগুলো উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলায় ধসে পড়া বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও দুটি পচনশীল মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং সম্প্রতি ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি গুলিতে নিহত হয়েছেন আরও তিনজন ফিলিস্তিনি৷ এই নতুন হতাহতের যোগফলের ওপর ভিত্তি করেই গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৭৩ হাজার ৯৮ জনে৷

যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও রানিং ইসরায়েলি লঙ্ঘন: সবচেয়ে বড় ও গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হলো— গত বছরের অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় গাজা উপত্যকায় একটি আনুষ্ঠানিক ও দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করা হয়েছিল৷ তবে সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন হওয়ার পরও গাজার বিভিন্ন বেসামরিক অঞ্চলে ইসরায়েলি আগ্রাসন ও চোরাগোপ্তা হামলা এক দিনের জন্যও বন্ধ থাকেনি৷ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রানিং তথ্য অনুযায়ী— চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের কারণে অন্তত ১ হাজার ৭২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৪৬৩ জন৷

৭০ বিলিয়ন ডলারের ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয়: জাতিসংঘের সাম্প্রতিক একটি মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা ও রানিং রিপোর্টে বলা হয়েছে— ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের এই দীর্ঘমেয়াদী আগ্রাসনের মাধ্যমে গাজা উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো, হাসপাতাল, বাসস্থান এবং স্কুল-কলেজ সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে৷ যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অবরুদ্ধ অঞ্চলের ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য প্রাথমিক পুনর্নির্মাণ ব্যয় হিসেবে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এক বিশাল খরচের প্রাক্কলন করেছে জাতিসংঘ৷ বর্তমানে গাজার প্রায় ২৪ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিক, যার মধ্যে ১৫ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ চরম খাদ্য, পানীয় এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধের তীব্র সংকটে এক অমানবিক ও মহাবিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যে রানিং দিনাতিপাত করছেন৷

সূত্র: আল জাজিরা

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *