মিয়ানমারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া ভূমিকম্পের আঘাত: টেকটনিক প্লেটের রানিং নড়াচড়ায় কাঁপছে ইয়াঙ্গুন-মান্দালয়, বড় দুর্যোগের শঙ্কা

বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারে আবারও পর পর শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে৷ মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই-দুটো পৃথক ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন প্রধান শহর ও প্রত্যন্ত এলাকায় নতুন করে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে৷ ভারতের রাষ্ট্রীয় ভূমিকম্প পরিমাপক সংস্থা ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি’ (NCS)-এর বৈশ্বিক ডাটাবেজ অনুযায়ী— আজ শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাতে ৪ দশমিক ১ মাত্রার একটি নতুন ভূমিকম্প মিয়ানমারে আঘাত হানে৷ ভারতীয় সময় রাত ১২টা ২০ মিনিটে হওয়া এই তীব্র কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৯০ কিলোমিটার গভীরে৷

জোড়া কম্পন ও গভীরতার রানিং পরিসংখ্যান: এর আগে ঠিক গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অর্থাৎ গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মিয়ানমারের ভূগর্ভে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী প্রাক-কম্পন অনুভূত হয়৷ ভূ-তাত্ত্বিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী— ওই প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০০ কিলোমিটার গভীরে৷ পরপর দুই দিন মিয়ানমারের মাটি কেঁপে ওঠায় দেশটির সাধারণ মানুষ গভীর রাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে ফাঁকা রাস্তায় নেমে আসেন৷ তবে স্বস্তির বিষয় হলো— তাৎক্ষণিকভাবে এই সর্বশেষ দুই দফা জোড়া ভূমিকম্পে কোনো ধরনের হতাহত বা বড় আকারের দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি৷

চার প্লেট ও সাগাইং ফল্টের মহাবিপদ: ভৌগোলিক ও ভূ-তাত্ত্বিক বিশেষ অবস্থানের কারণে মিয়ানমার মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ভূমিকম্পপ্রবণ ও বিপজ্জনক দেশ হিসেবে চিহ্নিত৷ ভূ-বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন— দেশটি ভূগর্ভস্থ চারটি অত্যন্ত সক্রিয় টেকটনিক প্লেটের (Tectonic Plates) সংযোগস্থলের একদম কাছাকাছি অবস্থান করছে৷ এর ওপর প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রলয়ঙ্কারী ‘সাগাইং ফল্ট’ (Sagaing Fault) মিয়ানমারের ঠিক মধ্যভাগ দিয়ে বিস্তৃত থাকায় দেশটিতে রানিং বড় ধরনের কোনো মেগা-ভূমিকম্পের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে৷

আন্তর্জাতিক ভূ-তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে— মিয়ানমারের এই সাগাইং ফল্টের প্রভাবে দেশটির মান্দালয়, বাগো, সাগাইং এবং সাবেক রাজধানী ইয়াঙ্গুনসহ ঘনবসতিপূর্ণ বেশ কয়েকটি প্রধান বাণিজ্যিক অঞ্চল বর্তমানে সর্বোচ্চ সুনামি ও ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে৷ বিশেষজ্ঞরা কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলছেন— ইয়াঙ্গুন শহরটি মূল ফল্টলাইন থেকে ভৌগোলিকভাবে কিছুটা দূরে অবস্থান করলেও, সেখানে আকাশচুম্বী ভবনের সংখ্যা এবং জনঘনত্ব অতিরিক্ত বেশি হওয়ায় যেকোনো বড় মাত্রার ভূমিকম্প সেখানে এক নিমেষেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে৷ উল্লেখ্য, এর আগে বিগত ১৯০৩ সালে ৭ মাত্রার একটি প্রলয়ঙ্কারী শক্তিশালী ভূমিকম্প ইয়াঙ্গুনকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল৷ বর্তমানের এই রানিং কম্পনগুলো কোনো বড় দুর্যোগের পূর্বাভাস কি না— তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে গবেষণা রানিং রয়েছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *