বিশ্বকাপের ফাইনালে টিকিট কাটল স্পেন
Entertainment, Featured, Latest, News, Popular, Sports, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #FIFAWorldCup2026, #SpainVsFrance, #WorldCupSemifinalনব্বই মিনিটের ফুটবল ম্যাচে একটা শক্তিশালী দলকে হয়তো হারানো যায়, কিন্তু প্রতিপক্ষের অহংকারকে ধূলিসাৎ করে তাদের মাঠের বুকেই স্রেফ নিজেদের ছায়ায় পরিণত করা? বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো মহোৎসবের মঞ্চে, যেখানে প্রতিপক্ষ দলে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে আর ব্রাদলে বারকোলার মতো আগুনে আক্রমণভাগ রয়েছে— সেখানে এমন একপেশে আধিপত্যের দৃশ্য ফুটবল বিশ্ব খুব কমই দেখেছে৷ টেক্সাসের ড্যালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে ফুটবল অনুরাগীরা চাক্ষুষ করলেন স্প্যানিশ ফুটবলের সেই নিখুঁত মাস্টারক্লাস৷ মাঠে ফ্রান্সের নীল জার্সি সশরীরে উপস্থিত থাকলেও পুরো সময় তারা কেবল বলের পেছনেই ছুটেছে, আর নান্দনিক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে মাঠ শাসন করেছে কেবল রক্তিম স্পেন৷ ফ্রান্সকে ২-০ গোলের ব্যবধানে অনায়াসে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা৷
কৌশলের দাবার বোর্ডে কিস্তিমাত: ম্যাচের কিক-অফের বাঁশি বাজার আগে সব গাণিতিক হিসাব ও তারকার ভার ছিল ফরাসিদের পক্ষে৷ এমবাপ্পের গতি আর ওলিসের সৃজনশীলতার ওপর ভর করেই ফাইনালের স্বপ্ন বুনছিলেন ফ্রান্সের ডিরেক্টর দিদিয়ে দেশম৷ কিন্তু আধুনিক ফুটবল যে কেবল বড় নামের খেলা নয়, বরং নিরেট কৌশলের দাবার বোর্ড— তা প্রথমার্ধের প্রথম মিনিট থেকেই প্রমাণ করে দেয় স্পেন৷ মাঝমাঠের দখল নিয়ে স্পেনের রদ্রি, ফ্যাবিয়ান রুইজ আর দানি ওলমো এমন এক অভেদ্য জাল বুনেছিলেন, যেখানে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ বোতলে বন্দি কর্কের মতো আটকে যায়৷ স্পেনের আধুনিক ‘পজিশনাল প্রেস’ আর ‘কাউন্টার প্রেস’-এর সামনে এমবাপ্পে বা দেম্বেলে কেউই একটিবারের জন্যও স্বাভাবিক ওয়ান-টু-ওয়ান তৈরি করতে পারেননি৷
ওয়ারজাবাল ও পোরোর লক্ষ্যভেদ: ম্যাচের ২২ মিনিটে প্রথম সাফল্য পায় টুর্নামেন্টের অন্যতম ধারাবাহিক দল স্পেন৷ ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢোকার মুখে তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালকে পেছন থেকে ফাউল করে বসেন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস ডিগনে৷ রেফারি ইভান বার্টনের পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে এক সেকেন্ডও দেরি হয়নি৷ স্পট কিক থেকে স্পেনের স্ট্রাইকার মিকেল ওয়ারজাবাল ডান পায়ের এক তীরের মতো নিখুঁত শটে ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেইনিয়ানকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান (১-০)৷
১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও স্পেন রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেনি, বরং আরও উঁচুতে উঠে প্রেস করতে থাকে৷ মাঝমাঠের অর্কেস্ট্রা কন্ডাক্টর রদ্রির একেকটি জাদুকরি পাসে ফরাসি ডিফেন্স লাইন বারবার ভেঙে পড়ছিল৷ প্রথমার্ধের শেষ দিকে এমবাপ্পে একক প্রচেষ্টায় একবার বক্সে ঢোকার চেষ্টা করলেও স্প্যানিশ গোলকিপার উনাই সিমন বিশ্বস্ত সুইপার-কিপার হিসেবে বক্সের বাইরে এসে সেই আক্রমণ নস্যাৎ করে দেন৷
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে ফ্রান্স মরিয়া হয়ে আক্রমণাত্মক বদলি খেলোয়াড় হিসেবে দেজিরে দুয়ে ও রায়ান চেরকিকে মাঠে নামায়৷ কিন্তু ফরাসিরা যতই ওপরের দিকে উঠেছে, স্পেনের কাউন্টার অ্যাটাকের পথ ততই প্রশস্ত হয়েছে৷ ম্যাচের ৫৮ মিনিটে আসে সেই চূড়ান্ত ও শেষ আঘাত৷ মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে ওলমোর বাড়িয়ে দেওয়া পাস ধরে রাইট-ব্যাক পেদ্রো পারো চমৎকার ড্রিবলিংয়ে ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে এক নিখুঁত নিচু ক্রসে ফ্রান্সের জালে বল পাঠান (২-০)৷ ম্যাচের স্কোরলাইন ২-০ হওয়ার পর ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের শরীর মাঠে থাকলেও মানসিক শক্তি যেন তখনই ভেঙে পড়েছিল৷ শেষ ২০ মিনিটে এমবাপ্পের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে চরম হতাশা৷ স্প্যানিশ ডিফেন্সের মার্ক কুকুরেল্লা ও পাউ কিউবারসিদের অটল প্রাচীর ভেদ করার কোনো চাবিকাঠিই খুঁজে পায়নি ফ্রান্স৷
এই ঐতিহাসিক জয়ে বিশ্বকাপের ট্রফি থেকে আর মাত্র এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে লা রোজা৷ আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরার মুকুটের জন্য স্পেন অপেক্ষা করছে আজ রাতের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জয়ী দল আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ডের জন্য৷ আর ফ্রান্সকে বিদায় নিতে হচ্ছে এক কঠিন শিক্ষা নিয়ে— তারকারা ম্যাচ জেতাতে পারে, কিন্তু ইতিহাস লেখে পুরো একটা সম্মিলিত দল৷
