16
Jul, 2026
মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান চরম যুদ্ধাবস্থা ও আন্তর্জাতিক সামরিক উত্তেজনার মাঝেই প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক শান্তির বার্তা দিয়েছে ইরান৷ তেহরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের নতুন সামরিক সংঘাতে জড়াতে চায় না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর অন্যতম নীতি নির্ধারক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া৷ আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা উল্লেখ করেন৷ তবে একই সাথে মার্কিন আগ্রাসনের হাত থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও বেসামরিক স্থাপনা রক্ষায় তেহরানের সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতির বিষয়টিও তিনি বিশ্ববাসীকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন৷
মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর প্রতি বন্ধুত্বের হাত: সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন— ‘ইরানের কোনো ধরনের আগ্রাসী বা উসকানিমূলক ইচ্ছা নেই প্রতিবেশী দেশ কিংবা এই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে কোনো প্রকার সামরিক বিরোধে জড়ানোর৷ ইরান সবসময় আঞ্চলিক ভ্রাতৃত্ববোধ অক্ষুণ্ন রাখতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং স্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে৷’
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর এই নমনীয় কিন্তু কূটনৈতিক বার্তা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মাঝে আস্থা ফেরানোর একটি বড় প্রয়াস হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা৷
আকরামিনিয়া তাঁর বিশেষ বিবৃতিতে আরও বলেন— ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের আপামর ইরানি জাতির সার্বিক নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষা করাকে তাদের পবিত্র এবং প্রধানতম দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে৷ এই মহান দায়িত্ব পালনের জন্য যেকোনো ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শত্রুর বিরুদ্ধে তারা সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ এবং বীরত্বের সাথে চেষ্টা চালিয়ে যাবে৷’
মার্কিন আগ্রাসনের কঠোর জবাব: সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক উসকানি ও ইরানের অভ্যন্তরীণ বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার হুমকির জবাবে ইরানের একজন শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তা কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিলেন যে— যদি ওয়াশিংটন ইরানের কোনো বেসামরিক বা পারমাণবিক স্থাপনায় সামান্যতম আঘাত হানে, তবে তার পাল্টা জবাবে ওই অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের সমস্ত স্ট্র্যাটেজিক ও আঞ্চলিক অবকাঠামো মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হবে৷
সেই প্রক্ষিতে সেনাপ্রধান আকরামিনিয়া পুনরায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন— ‘এই অঞ্চলের বাইরের কোনো দেশের উসকানিমূলক আচরণ তেহরান বরদাশত করবে না৷ বহিরাগত দেশগুলোর উচিত পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা৷ ইরানের বীর সশস্ত্র বাহিনী দেশের সীমানা রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে৷’ যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সম্ভাব্য সামরিক অ্যাডভেঞ্চারের জবাব দিতে তেহরানের এলিট ফোর্স ও রেভল্যুশনারি গার্ডস প্রস্তুত রয়েছে বলেও আভাস দেওয়া হয়েছে৷
সূত্র: আলজাজিরা