পদত্যাগ করলেন মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু
Featured, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #BongobhabanUpdate, #NationalPoliticsBD, PresidentSahabuddinResigns২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু৷ তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের৷ সরকারি জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, তিনি ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, যুবলীগের সভাপতি এবং ১৯৮০ সালে জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন৷ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের প্রেক্ষাপটের পর তিনি তিন বছর কারাগারে বন্দি ছিলেন৷ দলীয় আনুগত্যের এমন সরাসরি পটভূমি থাকায় শুরু থেকেই তার প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল৷
পাশাপাশি আইনি বিতর্কও তার পিছু ছাড়েনি৷ মো. সাহাবুদ্দিন ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ছিলেন৷ দুদক আইন অনুযায়ী, সংস্থাটির অবসরে যাওয়া কোনো কমিশনার বা চেয়ারম্যানের প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে নিয়োগের সুযোগ নেই৷ তবে তৎকালীন উচ্চ আদালত ১৯৯৬ সালের একটি পুরনো রায়ের নজির তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি পদকে ‘লাভজনক পদ নয়’ বলে সংজ্ঞায়িত করেন এবং তার নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছিলেন৷
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন— ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং আমি তা গ্রহণ করেছি৷’ তবে এর কিছুদিন পরেই একটি মিডিয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আকস্মিক দাবি করে বসেন— তার কাছে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের কোনো দালিলিক প্রমাণ বা লিখিত কপি নেই৷ এই মন্তব্যের পর দেশজুড়ে চরম তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ তৈরি হয়৷ তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা রাষ্ট্রপতির তীব্র সমালোচনা করে বঙ্গভবন ঘেরাও ও পদত্যাগের আলটিমেটাম দেন৷ পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বঙ্গভবন থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এটি একটি মীমাংসিত বিষয় উল্লেখ করে নতুন বিতর্ক না করার অনুরোধ জানানো হয়৷
পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গ বারবার জাতীয় রাজনীতিতে ঘুরেফিরে এসেছে৷ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেছিলেন— ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের আচরণে তিনি ‘অপমানিত’ বোধ করছেন৷ তিনি দাবি করেছিলেন— তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা দীর্ঘ সাত মাস তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি, রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাস থেকে তার অফিসিয়াল প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল৷ শেষ পর্যন্ত নানা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঝড় সামলে বিএনপি সরকারের আমলেই আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের মধ্য দিয়ে শেষ হলো মো. সাহাবুদ্দিনের ঘটনাবহুল বঙ্গভবন অধ্যায়৷
সূত্র: বিবিসি বাংলা
