ফেনীর পরশুরামে বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত সরকারি জলাশয় ভরাটের অভিযোগ স্থানীয় ঠিকাদার তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে
পরশুরাম থানায় এফআইআর গ্রহণের আবেদন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
সবীর আহমেদ ফোরকান
পরশুরাম প্রতিনিধি
পরপরশুরামে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
রেলওয়ের দাখিল করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রামের অধীন ৩১ নম্বর ফেনী কাচারীর আমিন মো. সলিম উল্লাহ চৌধুরী অভিযোগটি দায়ের করেন। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে পরশুরাম উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে তাজুল ইসলামকে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার কোলাপাড়া এলাকায় রুহুল আমিন মজুমদার বাড়ির সামনে রেললাইনের পশ্চিম পাশে কলেজ রোড সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত প্রায় ০.২৩ একর লাইসেন্সকৃত জলাশয় ভূমিতে গত ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি ভরাট করে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের কাজ চালানো হচ্ছে। সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার দাবি করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হলেও জলাশয় ভরাটের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। এতে সরকারি জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরকারি ভূমির অবৈধ শ্রেণি পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ওই স্থানে দোকানঘর নির্মাণের পরিকল্পনার তথ্যও রেলওয়ের নজরে এসেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সরকারি জলাশয় ভরাট বন্ধ, সরকারি ভূমি দখল ও শ্রেণি পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এফআইআর গ্রহণের জন্য পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে আবেদন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
এদিকে, অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকে প্রচলিত বিভিন্ন অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত প্রায় ১৭ বছরে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার গিলে খেয়েছেন সরকারি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা, গড়েছেন ব্যাংক ব্যালেন্স ও অর্থসম্পদ এবং তার অনিয়মের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ থাকলেও সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়নি আজও।
