ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মামনসা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— রাহাত, জিসান ও ইমন। তারা সবাই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মামনসা এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তাকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ২৬ জুলাই দুপুরে স্কুলের টিফিন বিরতির সময় শিশুটি বাড়িতে খাবার খেতে যাচ্ছিল। পথে অভিযুক্তদের একজন জরুরি কথা বলার অজুহাতে তাকে পাশের একটি কলাবাগানে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই অন্য চারজন ওত পেতে বসে ছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে আসামিরা তার মুখ চেপে ধরে পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় অভিযুক্তদের একজন পুরো ঘটনার ভিডিওচিত্র মোবাইলে ধারণ করে। শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে ভুক্তভোগী বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিস্তারিত জানালে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করে বোরহানউদ্দিন থানায় ভুক্তভোগীর ভাইয়ের বাদীত্বে মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাহাত, ইমন, জিহাদ, রহিম ও জিসান নামে মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে রাহাত, জিসান ও ইমনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠিয়েছে।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। ভিডিও ধারণ ও ঘটনার অন্যান্য আলামত সংগ্রহসহ বাকি দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের জোর প্রচেষ্টা চলছে।
