সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমাবার। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর ওপর আল্লাহ তাআলা এই দিনকে বিশেষ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। জুমার দিন মুমিনের হৃদয়ে সৃষ্টি হয় অপার্থিব সৌহার্দ ও প্রীতি। এ দিনে বিশেষ কিছু ইবাদত ও সুন্নাত আমল রয়েছে, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অফুরন্ত সওয়াব হাসিলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাদিসের আলোকে জুমার দিনের উল্লেখযোগ্য আমল ও ফজিলতগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
- ফজরের নামাজে বিশেষ তিলাওয়াত: জুমার দিন ফজরের ফরজ নামাজে সুরা আস-সিজদা ও সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাত (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৬৮)। এসব সুরায় মানব সৃষ্টি, কিয়ামত ও পুনরুত্থানের আলোচনা রয়েছে—যা মূলত জুমার দিনেই সংঘটিত হবে।
- বেশি পরিমাণে দরুদ পাঠ: এ দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠের নির্দেশ রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে পঠিত দরুদ তাঁর দরবারে পেশ করা হয় (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)।
- গোসল, সুগন্ধি ও উত্তম পোশাক পরিধান: জুমার নামাজে আসার পূর্বে ভালোভাবে গোসল করা, সামর্থ্য অনুযায়ী পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা বিশেষ তাগিদপ্রাপ্ত সুন্নাত (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০)।
- সুরা কাহফ তিলাওয়াত: হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় জ্যোতির্ময় হয়ে থাকবে (আত-তারগিব, হাদিস: ৭৩৫)।
- দ্রুত মসজিদে প্রবেশ ও খুতবা শান্তভাবে শোনা: অনর্থক কথা বা কাজ না করে দ্রুত মসজিদে পৌঁছানো এবং ইমাম যখন খুতবা দেবেন, তখন সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা জরুরি। খুতবার সময় পাশের জনকে ‘চুপ করো’ বলাও অনর্থক কাজের শামিল বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪০১)।
- জুমার নির্ধারিত সুরা তিলাওয়াত: রাসুল (সা.) জুমার নামাজে প্রায়শই সুরা আল-আলা ও সুরা আল-গাশিয়াহ কিংবা সুরা জুমুআ তিলাওয়াত করতেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১৩)।
- বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার: জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হয় (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫৮)। অধিকাংশ আলেমদের মতে, এই সময়টি হলো আসরের পর থেকে মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়।
এছাড়াও জুমার দিনে কবরের আজাব মাফ হওয়া এবং জামাতে উপস্থিত হয়ে গুনাহ মাফের সুযোগ লাভের কথা হাদিসে বিশেষভাবে উল্লেখিত রয়েছে।
