শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’-এর তাণ্ডবে চীনের পূর্বাঞ্চলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ের কারণে অর্থনৈতিক কেন্দ্র সাংহাইসহ উপকূলীয় এলাকার ১০ লক্ষাধিক বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে দেশটির উদ্ধারকারী দল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববাার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ানে টাইফুনটি প্রথম আঘাত হানে। ওই সময় ঝড়ের কেন্দ্রস্থলে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর টাইফুনটি ওয়েনঝৌ শহরের কাছে দ্বিতীয়বার আঘাত হানে।
টাইফুনের প্রভাবে গোটা পূর্ব চীনে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। কেবল সাংহাই শহরের বিমানবন্দরগুলোতেই প্রায় ১ হাজার ৪০০টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। পাশাপাশি ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান প্রদেশে ২০০টিরও বেশি ফেরি চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর ট্রেন সার্ভিস বন্ধ রাখার পাশাপাশি সমুদ্রে অবস্থানরত ৪৭৪টি নির্মাণ জাহাজকে নিরাপদ বন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচারে চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনএমসি) সর্বোচ্চ মাত্রার ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছিল। তবে সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে টাইফুনটি কিছুটা শক্তি হারিয়ে দুর্বল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে রূপ নিয়েছে।
দুর্বল হলেও ঝড়টি এখনো স্থলভাগের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, আগামী বুধবার পর্যন্ত শানডং, হেনান, হুবেই, আনহুই, জিয়াংসু, ঝেজিয়াং ও সাংহাইয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধস দেখা দিতে পারে।
যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সাংহাই ডিজনিল্যান্ড, লেগোল্যান্ড এবং দ্য বান্ড এলাকার ভিউয়িং প্ল্যাটফর্মসহ বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান বন্ধ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চীনে আঘাত হানার আগে টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে এবং হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে আঘাত হেনেছিল চলতি বছরের অন্যতম শক্তিশালী ঝড় ‘টাইফুন নুল’।
