ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি রাশিয়ায় চিকিৎসা নিচ্ছেন—এমন খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং শিগগিরই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাসের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে Al Jazeera। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ভ্লাদিমির পুতিন-এর আমন্ত্রণে চিকিৎসার জন্য মস্কোতে নেওয়া হয়েছে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।
তবে এ বিষয়ে Kremlin কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এদিকে ইসমাইল বাঘাই জানান, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা সুস্থ রয়েছেন এবং খুব শিগগিরই জনগণের উদ্দেশে আবারও ভাষণ দেবেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV-কে তিনি বলেন, “তিনি ভালো আছেন। আপনারা ইতোমধ্যে তার বক্তব্য শুনেছেন। আশা করছি, শিগগিরই তিনি আবারও জনসাধারণের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।”
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে বাঘাই দাবি করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ। তিনি বলেন, ইরানের জনগণ তাদের মাতৃভূমি রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলা চালানো হয়। হোয়াইট হাউস ইরানের কথিত ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকির কথা উল্লেখ করে এ হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরে। এর জবাবে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলার ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়।
যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। টানা ১৮ দিনের এই সংঘাতে প্রায় দেড় হাজার ইরানি নিহত হয়েছেন।
