জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের অগ্রগতি পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা
Latest, News election, julymovement, NCP, News, Politicsগণভবনে নির্মাণাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে তিনি জাদুঘরে পৌঁছে এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং নির্মাণ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।
পরিদর্শনকালে অধ্যাপক ইউনূস জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, আন্দোলনের ধারাবাহিকতা এবং দীর্ঘ দমন-পীড়নের সময়কার নানা আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্র পর্যবেক্ষণ করেন। জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রী, পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথি, সেই সময়কার সংবাদপত্রের কাটিংসহ অডিও-ভিডিও দলিল।
এই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, গুমের শিকার পরিবারের প্রতিনিধিরা, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে কিউরেটর ও গবেষক দল অতিথিদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান।
প্রধান উপদেষ্টা প্রায় ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রত্যক্ষ করেন, যেখানে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত গুম, দমন-পীড়ন, বিরোধী মত দমনের চিত্র এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার গণহত্যার বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নির্মিত।
পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে অল্প সময়ের মধ্যেই এই জাদুঘর নির্মাণ একটি বিরল দৃষ্টান্ত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যতে যেন আর কখনো এমন নৃশংসতার স্মৃতি ধরে রাখতে জাদুঘর গড়ার প্রয়োজন না হয়। তবে জাতি যদি কখনো দিশেহারা হয়ে পড়ে, এই জাদুঘর মানুষকে সঠিক পথের দিশা দেবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত এই জাদুঘর পরিদর্শন করা, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের দলবদ্ধভাবে এখানে আসা প্রয়োজন। এখানে সময় কাটালে মানুষ উপলব্ধি করতে পারবে কী ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্য দিয়ে দেশকে যেতে হয়েছে। আয়নাঘর অংশে সময় কাটানোর সুযোগ মানুষকে সেই নির্মমতার গভীরতা বুঝতে সহায়তা করবে।
অধ্যাপক ইউনূস তরুণ ও সাধারণ মানুষের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, কোনো অস্ত্র ছাড়াই তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জাদুঘরের কাজে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে জাদুঘরের কাজ এই পর্যায়ে পৌঁছানো একটি রেকর্ড। অনেক তরুণ দীর্ঘ সময় বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন, তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি জানান, বাকি অংশের কাজ দ্রুত শেষ করে নির্বাচনের আগেই জাদুঘরটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শুধু অতীতের সাক্ষ্য নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চিন্তা, শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
