ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের আকাশে নাটকীয়ভাবে এক বিশেষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া বা ‘র্যাপিড রেসপন্স’ সামরিক মহড়া চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরের বিশেষ বাহিনী। সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নাটকীয় পতনের সাড়ে চার মাস পর ভেনেজুয়েলার মাটিতে এটিই প্রথম কোনো মার্কিন সামরিক মহড়া। খবর রয়টার্স ও এপি’র।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর এই এয়ার ইভাকুয়েশন (আকাশপথে দ্রুত উদ্ধার) মহড়াটি মূলত কারাকাসে সম্প্রতি পুনরায় চালু হওয়া মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। মহড়ায় দুটি অত্যাধুনিক ‘এমভি-২২বি অসপ্রে’ (MV-22B Osprey) সামরিক আকাশযান ব্যবহার করা হয়, যা একই সাথে হেলিকপ্টার ও ফিক্সড-উইং বিমানের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল এবং অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে জানান, এই মহড়াটি আগে থেকেই তাদের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দ্বারা অনুমোদিত ছিল। মূলত ভবিষ্যতে যেকোনো চিকিৎসা জরুরি অবস্থা (Medical Emergencies) কিংবা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে এই ড্রিলে সহযোগিতা করেছে ভেনেজুয়েলা।
তবে সরকারি দাবি যা-ই হোক না কেন, দীর্ঘ সময় পর রাজধানীর বুক চিরে মার্কিন সামরিক বিমান ও সেনা সদস্যদের ওড়াউড়ি করতে দেখে কারাকাসের সাধারণ বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এই পরিস্থিতিকে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বে বিদেশি হস্তক্ষেপ ও চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি শহরের কিছু অংশে ‘নো টু দ্য ইয়াংকি ড্রিল’ (মার্কিন মহড়া না বলুন) সংবলিত ব্যানার নিয়ে ছোটখাটো বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) অনুষ্ঠিত এই মহড়াটি সরাসরি তদারকি করতে একটি ‘অসপ্রে’ বিমানে চেপে কারাকাসে পা রাখেন মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান মেরিন জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভান। তিনি দূতাবাসের কর্মকর্তা ও ভেনেজুয়েলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করেন। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মহড়াটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দফার ‘ভেনেজুয়েলা স্থিতিশীলতা’ পরিকল্পনার অংশ।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসের আকাশে মার্কিন সামরিক বিমান শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের এলিট ফোর্সের সদস্যরা হেলিকপ্টার থেকে নেমে তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করে মাদক পাচারের মামলায় নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। এরপর দেশটিতে মার্কিন সমর্থনে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় এবং মার্চ মাসে দীর্ঘ দিন পর মার্কিন দূতাবাস পুনরায় সচল করা হয়। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মহড়াটিকে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্যের নতুন প্রদর্শনী হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
