কোরবানির হাট কাঁপাতে প্রস্তুত ৩০ মণের ‘দিনাজপুরের সম্রাট’,ক্রেতাদের ভিড়
Featured, Latest, News, Popular, Trending #abongtv, #DinajpurerSamrat, #dinajpurnews, #EidUlAzha, #QurbaniCow2026আসন্ন ঈদুল আজহা (কোরবানির ঈদ) উপলক্ষে দিনাজপুরে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে ৩০ মণ ওজনের এক বিশাল ষাঁড়, যার নাম রাখা হয়েছে ‘দিনাজপুরের সম্রাট’। ধূসর রঙের সুঠাম দেহের অধিকারী এই ষাঁড়টিকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন ক্রেতা ও উৎসুক সাধারণ মানুষ। মালিক এর দাম নির্ধারণ করেছেন ১২ লাখ টাকা।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের মধ্যদুর্গাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে নিজের বাড়িতেই এই ষাঁড়টি লালন-পালন করেছেন। শান্ত স্বভাবের শাহীওয়াল ও ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের এই সম্রাটের শরীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট এবং উচ্চতা ৫ ফুট। ওজন ১ হাজার ১২৫ কেজি অর্থাৎ প্রায় ৩০ মণ। ব্যবসার পাশাপাশি শখের বসে রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে সম্রাটসহ আরও ১০টি উন্নত জাতের গরু লালন-পালন করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে তাদের খামারের একটি শাহীওয়াল গাভী থেকে জন্ম নেয় এই ষাঁড়টি। রাজ্জাকের ছোট ভাই মাহাবুব বলেন, “আমরা সম্রাটকে সন্তানের মতো যত্ন নিয়ে বড় করেছি। ‘সম্রাট’ নামে ডাক দিলে সে সাড়া দেয় ও ঘুরে তাকায়। তার প্রতি আমাদের পুরো পরিবারের গভীর মায়া জন্মে গেছে।” বিশাল আকৃতির কারণে হাটে আনা-নেওয়া করা কষ্টকর, তাই বাড়ি থেকেই সম্রাটকে বিক্রি করতে চান তারা।
সম্রাটের খাদ্যতালিকাও বেশ রাজকীয়। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, ঘাস, ছোলা, মসুরের ডাল, ভুসি, ভুট্টার আটা, খুদের ভাত, খৈল, ধানের গুঁড়া ও চিটা গুড় খাওয়ানো হয় তাকে। পাশাপাশি গাজর, আপেল, কাঁঠাল ও বাঁধাকপির মতো বিভিন্ন মৌসুমি ফলও দেওয়া হয়। সম্রাটের পেছনে প্রতিদিন খরচ হয় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। তার থাকার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা ফ্যানের ব্যবস্থা রয়েছে; বিদ্যুৎ চলে গেলে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হয় এবং প্রতিদিন তিন-চারবার গোসল করাতে হয়। মালিক জানান, ১২ লাখ টাকা দাম চাওয়া হলেও আলোচনা সাপেক্ষে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার দিনাজপুরে কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। জেলায় ৬২ হাজার ৪০৮ জন খামারি ও বাসাবাড়িতে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি গরুসহ পর্যাপ্ত মহিষ, ছাগল ও ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম জানান, জেলায় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিদের সবসময় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ক্ষতিকর ওষুধমুক্ত পশু লালন-পালনে উৎসাহিত করা হয়েছে।
