টেক্সাসে আইসিইর রেকর্ড অভিযানে ২৩৮ জন অভিবাসী আটক
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #ICEBorderCrackdown2026, #IllegalImmigrationUS, #PaisasGangMemberCaught, #RioGrandeValleyArrests, #TrumpTrafficStopsPolicyযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মেক্সিকো সীমান্ত সংলগ্ন রিও গ্র্যান্ড ভ্যালিতে (Rio Grande Valley) একদিনের নজিরবিহীন এক বিশেষ অভিযানে অন্তত ২৩৮ জন অবৈধ অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক দুর্ধর্ষ গ্যাংয়ের সদস্যদের আটক করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)৷ সংস্থাটির ইতিহাসে এটিকে ওই অঞ্চলের অন্যতম সর্ববৃহৎ ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক ক্র্যাকডাউন বা অভিযান হিসেবে দাবি করা হয়েছে৷ মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ (Fox News) ও একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্র এই খবর নিশ্চিত করেছে৷
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ট্রাফিক স্টপ নীতিতে অনড় অবস্থান: আইসিইর এই রেকর্ড অভিযানটি এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে পরিচালিত হলো, যখন দেশটিতে মার্কিন প্রশাসনের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং সীমান্ত নীতি নির্ধারকেরা সাময়িকভাবে ‘ট্রাফিক স্টপ’ বা যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালানোর বিতর্কিত পদ্ধতিটি স্থগিত করার বিষয়ে গভীরভাবে বিবেচনা করছিল৷ সম্প্রতি টেক্সাস এবং মেইন অঙ্গরাজ্যে গাড়ি থামিয়ে আইসিই কর্মকর্তাদের করা গুলিবর্ষণের মতো কয়েকটি মারাত্মক ঘটনার পর মানবাধিকার সংগঠনগুলোর চরম প্রতিবাদের মুখে এই স্থগিতের প্রস্তাব আসে৷
তবে সকল প্রশাসনিক প্রস্তাবকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোরভাবে এই ট্রাফিক স্টপ বা চিরুনি সড়ক অভিযানের পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়েছেন৷ তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ এক পোস্টে সাফ জানিয়েছেন যে— ট্রাফিক স্টপ অভিযান হলো আইসিইর অপরাধ দমনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর কৌশলগুলোর অন্যতম একটি৷ এই ধরনের তল্লাশি ব্যবস্থা যদি বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে তা পরোক্ষভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধী ও পাচারকারীদের সরাসরি মদদ দেওয়ার সমান হবে৷
মেক্সিকান অপরাধী ও কুখ্যাত গ্যাং সদস্যদের আটক: আইসিইর টেক্সাস হারলিনজেন ফিল্ড অফিস (Harlingen Field Office) জানিয়েছে— গত ১৮ জুনের এই সমন্বিত অভিযানে স্থানীয় মার্কিন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় মোট ২৩৮ জনকে পাকড়াও করা হয়৷ আটককৃতদের ব্যাকগ্রাউন্ড অনুসন্ধান করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের চোখ কপালে উঠেছে৷ তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আদালতে আগে থেকেই অপহরণের অপচেষ্টা, নারী ও শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন, মানবপাচার এবং মারাত্মক মাদক বা অস্ত্র রাখার মতো ভয়ংকর ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে৷
আটকদের মধ্যে অন্যতম চাঞ্চল্যকর নাম হলো ম্যানুয়েল মোরালেস-হেরোনিমো (Manuel Morales-Geronimo)৷ আইসিইর তদন্ত প্রতিবেদনে মেক্সিকান বংশোদ্ভূত এই নাগরিককে কুখ্যাত ও উগ্র মেক্সিকান গ্যাং ‘পাইসাস’ (Paisas) এর একজন সক্রিয় ও শীর্ষ সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গুরুতর মারামারি ও জখম সৃষ্টি, মাদক ও বিপুল পরিমাণ গাঁজা বহন, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, সীমানা টপকে অবৈধভাবে একাধিকবার অনুপ্রবেশ এবং তিনবার অবৈধ উপায়ে পুনঃপ্রবেশের অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার দীর্ঘ বিচারিক নথিপত্র রয়েছে৷
একই সাথে আটক হওয়া অপর মেক্সিকান হোসে আলফ্রেদো কাস্তিয়ো-মেন্দোজা (Jose Alfredo Castillo-Mendoza) এর বিরুদ্ধে আদালতে অপহরণের চেষ্টা, যৌন নিপীড়ন ও পূর্বে ৩ বার অবৈধ পুনঃপ্রবেশের অভিযোগে চলমান মামলা ও সাজার তথ্য নিশ্চিত করেছে আইসিই৷
হারলিনজেন ফিল্ড অফিসের পরিচালক হুয়ান আগুদেলো এক বিশেষ বিবৃতিতে জানান— ‘যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জননিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা এবং দেশের দীর্ঘদিনের অভিবাসন ব্যবস্থার অখণ্ডতা ও ভাবমূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আইসিইর জিরো টলারেন্স অভিযান ও কঠোর তল্লাশি নীতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে৷’
