ট্রাম্পের শর্তে চুক্তি না হলে ইরানের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র; পাল্টা ড্রোন ফেলল তেহরান
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #CentcomAlert, #DonaldTrumpRedLine, #Irna, #PeteHegseth, #USIranConflict, #WhiteHouseSituationRoomমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত কঠোর শর্ত অনুযায়ী স্থায়ী শান্তিচুক্তি না হলে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আবারও পুরোদমে শুরু করতে ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে শনিবার চরম সতর্কবার্তা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো চুক্তিতে ইরানকে অবশ্যই ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে হবে, যা তাঁর অন্যতম প্রধান ‘রেড লাইন’। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির (AFP) এক প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য জানানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বৈঠক, মেলেনি সিদ্ধান্ত: হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনো সেটিতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেননি। মার্কিন সূত্রগুলো এএফপিকে নিশ্চিত করেছে যে, চুক্তির খসড়াটি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের টেবিল সইয়ের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে। তবে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের অতি গোপনীয় ‘সিচুয়েশন রুমে’ (Situation Room) শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকের পরও ট্রাম্প এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। অন্যদিকে, ইরানও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের সাথে যুদ্ধের অবসান নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা শতভাগ সমঝোতা হয়নি।
এদিকে সিঙ্গাপুরে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিয়ে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের উদ্দেশ্যে সরাসরি সামরিক হুঙ্কার ছেড়েছেন। তিনি বলেছেন, “চুক্তি ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে ওয়াশিংটন আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’। এই ধরনের যেকোনো পরিস্থিতি বা যুদ্ধ মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডার সবসময় তৈরি রাখা হয়েছে।”
পাশাপাশি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) এক বার্তায় জানিয়েছে, তাদের চৌকস নৌ ও বিমান বাহিনী পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল জুড়ে অত্যন্ত কৌশলগতভাবে মোতায়েন রয়েছে এবং সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্ক (High Alert) অবস্থানে আছে। উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাস থেকে দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মাঝেমধ্যেই অবরুদ্ধ সীমান্ত ও জলসীমায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।
দুই দেশের এই চরম উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই সামরিক শক্তির পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA) শনিবার এক বিশেষ বুলেটিনে দাবি করেছে, দেশটির সেনাবাহিনী তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ আগ্রাসী বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক সামরিক ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।
কূটনৈতিক স্তরে পর্দার আড়ালে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি এখনো জটিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির জন্য প্রধান দুটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। প্রথমত, ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার লিখিত নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান রুট অবরুদ্ধ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় আন্তর্জাতিক নৌ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জোর দিয়ে বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধু সেই চুক্তিতেই সম্মত হবেন, যা শতভাগ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে এবং তার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করবে। ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক শক্তি হতে দেওয়া হবে না।” তবে ইরানের নীতিনির্ধারকদের মতে, বর্তমানে লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অংশ হওয়া উচিত, যদিও একই সময়ে ইসরায়েলি স্থলবাহিনী লেবাননের ভেতরে আরও গভীরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
