তথ্য ফাঁসের কারণে জঙ্গল সলিমপুর অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত; উচ্ছেদ নয়, হবে পুনর্বাসন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #ChittagongCrime, #JangalSalimpur, #SalahuddinAhmed, #SitakundaUpdateচট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হলেও, ভেতরের তথ্য আগেভাগে ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণে অভিযানের মূল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, অপরাধীরা পুরো এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাহারা বসিয়ে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, তবে প্রশাসন ইতোমধ্যে তাদের সেই অবৈধ নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিয়েছে।
আজ রবিবার (৩১ মে) দুপুর ১১টায় সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। এ সময় বিগত শাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে রাষ্ট্রে যেই চরম দুর্বৃত্তায়ন চলেছিল, সীতাকুণ্ডের এই জঙ্গল সলিমপুর অঞ্চলটি তারই একটি উৎকৃষ্ট ও জ্যান্ত উদাহরণ।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে রাস্তা কেটে ফেলা, পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার মতো দুঃসাহসিক ঘটনার সাথে ঠিক কারা জড়িত এবং কারা দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি জমি দখলের সাথে জড়িত, আমরা তাদের প্রত্যেককে নিখুঁতভাবে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।”
তিনি আরও জানান, সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী এবং চট্টগ্রাম মূল শহরের সাথে কিভাবে জঙ্গল সলিমপুরের একটি আধুনিক রোড নেটওয়ার্ক বা সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। পুরো অঞ্চলের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ফাঁড়ি এবং সেনানিবাস কিভাবে স্থাপন করা যায়, সেই মহাপরিকল্পনাও তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া বায়েজিদের পাশে সরকারি খাস জমিতে নতুন কারাগার ভবন গড়ে তোলার যে অনুমোদন অনেক আগে দেওয়া হয়েছিল, সেটি দ্রুত বাস্তবায়নের পথ খোঁজা হচ্ছে।
জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা জনগণের সরকার, জনগণকে কমফোর্ট বা স্বস্তি দেওয়ার জন্যই আমরা দায়িত্বে এসেছি। এখানে যারা কোনো না কোনোভাবে নিরুপায় হয়ে অস্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুলতে বাধ্য হয়েছে, তাদেরকে কিভাবে পরিকল্পিত উপায়ে পুনর্বাসন করা যায়, সেটি আমরা বিবেচনা করব। তাদেরকে এখান থেকে আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যদি কোনো প্রভাবশালী মহল বা ভূমিদস্যু সাধারণ মানুষকে নানা ভয়-ভীতি দেখিয়ে উচ্ছেদ করতে চায়, তবে তাদের ধরে সরাসরি কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে।
হাই-প্রোফাইল এই পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ আলী ফকির।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, র্যাব-৭-এর সিইও মো. হাফিজুর রহমান এবং চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
