ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টমসের সিপাহি আবু রায়হান তালুকদারের (৩৫) খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর এলাকায় তার বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে বস্তাবন্দি ও ব্যাগভর্তি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবু রায়হান সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত আবু বকর সিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকা বাংলাদেশ কাস্টম হাউস কমলাপুরে সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাতে নিজ বাড়িতে আসেন রায়হান। ওই রাতে নিজ ঘরের কেয়ারটেকার রাজুকে নিয়ে অবস্থান করেন। পরদিন শুক্রবার সকালে কর্মস্থলে ফেরার কথা বলে রাজুকে সাথে নিয়েই বাড়ি থেকে বের হন তিনি। দুদিন পর ২৬ জুলাই তার কার্যালয়ের এক সহকর্মী পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানান যে, আবু রায়হান অফিসে পৌঁছাননি এবং তার ফোনও বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে আত্মীয়স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পেয়ে ২৭ জুলাই ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডির তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, আবু রায়হানের কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। রোববার দুপুরের দিকে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের পুকুরে সন্দেহজনক ব্যাগ ও বস্তা ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে টুকরো টুকরো করা খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে।
ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “মরদেহ টুকরো টুকরো করে ট্রাভেল ব্যাগ ও বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে জোর পুলিশি অভিযান ও তদন্ত চলছে।”
