পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: সিআইডির ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তর, আগামীকালই জমা হচ্ছে চার্জশিট
Featured, Latest, News, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #CIDBangladesh, #DNAReport, #JusticeForRamisa, #PallabiMurderCaseরাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার মামলায় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে পুলিশ। আজ শনিবার (২৩ মে) বিকেলে মামলার বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ— শিশু রামিসার ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার রিপোর্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, সমস্ত আইনগত প্রক্রিয়া ও তথ্য-প্রমাণ গোছানো শেষ। আগামী কাল রবিবার (২৪ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
গত ১৯ মে পল্লবী থানার মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন একটি বাসায় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন (২০ মে) রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার মাত্র ৫ দিনের মাথায় ডিএনএ রিপোর্ট প্রস্তুত ও চার্জশিট দাখিলের এই দ্রুত প্রক্রিয়াকে দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।
গ্রেপ্তারের পর গত বুধবার (২০ মে) প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে আসামি সোহেল রানা নিজের অপরাধ সম্পূর্ণ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের খাসকামরায় দেওয়া জবানবন্দিতে পাষণ্ড সোহেল স্বীকার করে, ঘটনার ঠিক আগে সে মারাত্মক ক্ষতিকর মাদক ‘ইয়াবা’ সেবন করেছিল। এরপর সে নেশাগ্রস্ত ও অবচেতন অবস্থায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করে এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করে। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পল্লবীতে রামিসা ও দেশজুড়ে আছিয়া হত্যাকাণ্ডের পর যখন বিচারিক দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই দ্রুত পদক্ষেপ ভুক্তভোগী পরিবারটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার এনে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
