মোটরসাইকেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়করের প্রস্তাব: এনবিআরের সামনে বাইকারদের বিক্ষোভ
Featured, Latest, News, Popular, Trending #abongtv, #Budget2026, #MotorcycleTax, #NBRBangladesh, #noaitonbike, #SaveBikers২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা। এই কর প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবিতে আজ রোববার (১৭ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। মানববন্ধন শেষে এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারী বাইকারদের অভিযোগ, আসন্ন বাজেটে মোটরসাইকেলের সিসি (ক্যাপাসিটি) ভেদে বিপুল অঙ্কের অগ্রিম আয়কর আরোপের বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, ১১১-১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬-১৬৫ সিসির জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশের সাধারণ বাইকারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাইকারদের পক্ষে স্মারকলিপি জমা দেন এ কে এম ইমন। মানববন্ধনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যে মোটরসাইকেল প্রায় ১ লাখ টাকায় পাওয়া যায়, বাংলাদেশে উচ্চ করের কারণে সেটি কিনতে ৩ লাখ টাকার মতো ব্যয় করতে হয়। এর ওপর আবার নতুন করের বোঝা চাপানো হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, মোটরসাইকেল এখন আর কোনো বিলাসপণ্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। রাইড শেয়ারিং ও পণ্য ডেলিভারি করে প্রতিদিন বহু মানুষ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় করছেন, নতুন এই কর তাদের জীবন-জীবিকাকে মারাত্মক সংকটে ফেলবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যানজটের এই শহরে অফিসগামী চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং রাইড শেয়ারিং চালকদের জন্য মোটরসাইকেল একটি অতি প্রয়োজনীয় বাহন। গণপরিবহনের সংকট ও নারীদের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমানে বিপুলসংখ্যক নারী স্বাধীন ও নিরাপদ যাতায়াতের জন্য স্কুটি বা মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন। এই বাড়তি কর নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও চলাচলেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, মোটরসাইকেল কেনার সময় এবং পরে নিবন্ধন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বিমা ও জ্বালানির ওপর এমনিতেই বিপুল পরিমাণ কর দিতে হয়। এর ওপর আবার নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হলে তা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দেবে। মোটরসাইকেলকে বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচনা না করে, সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় গণপরিবহন হিসেবে মূল্যায়ন করে এই প্রস্তাবিত কর অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান তারা।
