যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংসাত্মক আক্রমণের মুখে কৌশল বদলাল ইরান
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #abongtv, #BahrainAirportAttack, #BangladeshNews, #DonaldTrumpIranPolicy, #IranStrategyGulfWar, #IrgcStrikeKuwait, #MiddleEastCrisis, #USIranConflict2026যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বিধ্বংসী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে সরাসরি মার্কিন নৌবহর কিংবা ইসরায়েলি ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত না হেনে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েছে ইরান৷ কৌশলগত অবস্থান থেকে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরানের সশস্ত্র বাহিনী৷
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে— বিশ্বযুদ্ধ বা সরাসরি অলআউট যুদ্ধ ছড়িয়ে না দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নজিরবিহীন মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতেই মূলত এই সুদূরপ্রসারী কৌশল বেছে নিয়েছে তেহরান৷
অবকাঠামো ধ্বংসের পাল্টা জবাব: সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলায় ইরানের অভ্যন্তরীণ রেলপথ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার হাব এবং খাবার পানির প্ল্যান্টগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ এর সরাসরি জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বিশালাকার পানি শোধনাগারগুলোতে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)৷
নৌবহর এড়িয়ে উপসাগরীয় ভূখণ্ডকে টার্গেটের কারণ: লেবাননের সাবেক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও সামরিক বিশ্লেষক ইলিয়াস হান্না আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে জানান— মার্কিন বিমানবাহী নৌবহরে সরাসরি হামলা চালানো সামরিকভাবে অত্যন্ত কঠিন, কারণ সেগুলো সর্বাধুনিক প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সুরক্ষিত৷ তাছাড়া সরাসরি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানলে ওয়াশিংটন থেকে যে ভয়াবহ ও অপ্রতিরোধ্য প্রতিক্রিয়া আসবে, তা এড়াতেই মূলত ইরান প্রতিবেশীদের ওপর চাপের পথ বেছে নিয়েছে৷
অন্যদিকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক আতিফে তাঘিয়ানি দাবি করেন— মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের এই উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ভূখণ্ডে আক্রমণ পরিচালনা করছে৷ ফলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার জন্য ইরান সেই সব ভূমিতে পাল্টা হামলা চালানোর পূর্ণ অধিকার রাখে৷
বিশ্লেষকদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও কৌশলগত ব্যর্থতা: তবে ইরানের এই দাবিকে সরাসরি ‘মনগড়া প্রচারণা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল-শায়জি৷ তিনি স্পষ্ট জানান— সমস্ত মার্কিন হামলা চালানো হচ্ছে উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটার গভীরে থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘জর্জেস ডব্লিউ বুশ’ ও ‘আব্রাহাম লিংকন’ থেকে৷ উপসাগরীয় কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে দেয়নি এবং এ বিষয়ে তেহরানকে স্পষ্ট দাপ্তরিক বার্তাও পাঠানো হয়েছে৷
আল-শায়জির মতে— মধ্যপ্রাচ্যের কড়া গরমের মধ্যে কুয়েতের প্রধান ভরসা পানীয় জল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে সাধারণ নিরীহ মানুষের জীবন বিপন্ন করছে ইরান৷ তিনি মনে করেন, উপসাগরীয় দেশকে নিশানা বানিয়ে ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধে রাজি করানোর যে চেষ্টা তেহরান করছে, তা সম্পূর্ণ একটি ব্যর্থ রণকৌশল৷
কাতারের কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-ওতাইবি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন— যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান, কোনো পক্ষই এই মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ সংঘাত বা সরাসরি যুদ্ধ চায় না৷ তাই উভয় পক্ষই সাবধানে ও দেখেশুনে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করছে৷ উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে জুন মাসে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরেও একের পর এক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মাধ্যমে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে৷
