চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাজনিত ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত ইরানে বড় ধরনের মানবিক সহায়তার চালান পাঠিয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাক, উজবেকিস্তান এবং কাজাখস্তান। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (IRCS) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, চলতি সপ্তাহেই এই বিশাল ত্রাণসামগ্রী স্থলপথ ও রেলপথ ব্যবহার করে ইরানের সীমানায় প্রবেশ করেছে।
ইরানের আধা-সরকারি গণমাধ্যম তাসনিম সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেড ক্রিসেন্টের আন্তর্জাতিক বিষয়ক ও মানবিক আইন বিভাগের উপপ্রধান রাজিয়েহ আলিশভান্দি এই ত্রাণ কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন।
দেশভিত্তিক সহায়তার বিবরণ:
- ইরাক (১৮০ টন): ইরাক থেকে মোট ৯টি বড় ট্রাকে করে প্রায় ১৮০ টন ত্রাণসামগ্রী ইরানে এসেছে। এর মধ্যে চাল, আটা, চা, ডাল ও টিনজাত খাবারের মতো প্রায় ১২০ টন খাদ্যপণ্য রয়েছে। এছাড়া সংকটের মুখে থাকা ইরানিদের জন্য রয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম।
- উজবেকিস্তান (৩০০ টন): উজবেকিস্তান সরকার ১৫টি ট্রাকে করে প্রায় ৩০০ টন উন্নত মানের ওষুধ এবং চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ভোগ্যপণ্য পাঠিয়েছে। এই চালানটি ইরানি রেড ক্রিসেন্টের চলমান মাঠপর্যায়ের জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রমকে আরও বেশি শক্তিশালী করবে বলে জানানো হয়েছে।
- কাজাখস্তান (১,৭০০ টন): সবচেয়ে বড় চালানটি এসেছে কাজাখস্তান থেকে। দেশটির সরকারের পাঠানো ৩০টি বিশেষ রেল ওয়াগনে করে ১ হাজার ৭০০ টনেরও বেশি সহায়তা ইরানে এসে পৌঁছেছে। এই বিশাল চালানের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আটা, চিনি, টিনজাত খাবার এবং বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম।
ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি (Inflation Rate) ইতিমধ্যেই ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে ঘরোয়া বাজারে সাধারণ খাদ্যদ্রব্য, শিশুখাদ্য এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। কোটি কোটি মানুষ যখন চরম মানবিক ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন, তখন বন্ধুভাবাপন্ন এই তিন দেশের পাঠানো ২ হাজার ১৮০ টনেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী ইরানিদের সাময়িক স্বস্তি দেবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল জাজিরা
