মেহেরপুরে সরকারি প্রণোদনার আওতায় বিতরণ করা বোরো ধান বীজে ভয়াবহ ভেজালের অভিযোগ উঠেছে। একই জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান হওয়া, কোথাও পচন ধরা আবার কোথাও সময়ের আগে ধান পেকে যাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার কৃষকেরা। ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কার পাশাপাশি অসময়ে ধান কাটা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ চাষিরা।

জেলার গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অমানবিক এক চিত্র। বর্গাচাষি আব্দুল আলীম উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ৫ কেজি বীজ পেয়েছিলেন। ধারদেনা করে বিঘা প্রতি ২০ হাজার টাকা খরচ করে আবাদ করলেও এখন ধানের অবস্থা শোচনীয়। একই জমিতে কিছু ধান পেকে গেছে, কিছু গাছে মাত্র শীষ বের হচ্ছে, আবার কিছু গাছ এখনও থোড় পর্যায়ে। এর ওপর যোগ হয়েছে শীষ শুকিয়ে যাওয়া ও পচন ধরার সমস্যা। আব্দুল আলীমের দাবি, তাঁর জমির অন্তত ২০ শতাংশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হামিদুল ইসলাম ও আক্তার হোসেন জানান, প্রণোদনার বীজ প্রায়ই মৌসুমের শেষ দিকে দেওয়া হয়, যা গুণগতভাবে নিম্নমানের। তাঁরা বলছেন, সরকারি বীজের ওপর আস্থা রেখে চাষাবাদ করে এখন তাঁরা পথে বসার উপক্রম। তাঁদের অভিযোগ, নিম্নমানের বা ভেজাল বীজের কারণেই এই ফলন বিপর্যয়।

বীজে ভেজালের দায় নিতে নারাজ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, “বীজ সরবরাহ করে বিএডিসি, তাই তারাই ভালো বলতে পারবে। তবে আমরা বিষয়টি তদন্তের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি।” অন্যদিকে, বিএডিসির মেহেরপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, এখন পর্যন্ত তাঁর কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি, আসলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে ১৯ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ৮৭ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে জেলার ১ হাজার ৬০০ জন কৃষককে ৫ কেজি করে ব্রি-ধান ৮৮, ৮৯ ও ৯২ জাতের বীজ প্রদান করা হয়েছিল। কৃষকদের আশঙ্কা, এই ভেজাল বীজের কারণে জেলার মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *