দেশজুড়ে শ্রম আইন লঙ্ঘনকারী হাজার হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে সৌদি আরব প্রশাসন। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ২০০-এর বেশি ওয়ার্ক ভিসা বাতিল করেছে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ভিসা বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের জন্য সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা স্থগিত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষক দল এবং আধুনিক ‘স্মার্ট নজরদারি ব্যবস্থা’-এর মাধ্যমে প্রায় ৯১ হাজার সন্দেহজনক ঘটনা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ কর্মসংস্থান সম্পর্কিত ১৩ হাজার ৫০৯টি বড় ধরনের অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।
শ্রম আইন অমান্য করায় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সৌদিকরণ কর্মসূচি ‘নিতাকাত’ (Nitaqat)-এর হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের বৈধ চাকরির সুযোগ খুঁজে পেতে সহায়তার জন্য তাদের তথ্য মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল ‘হাদাফ’ (Hadaf)-এ পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই (জানুয়ারি-মার্চ) বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার সরেজমিন পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়েছে। এই পরিদর্শনকালে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার অনিয়ম ধরা পড়ে। পরিস্থিতি সংশোধনের জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন নিয়োগ কার্যালয়গুলোতে ৩ হাজার ৫২২টি লঙ্ঘন নথিভুক্ত করা হয়েছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অবৈধ গৃহশ্রম পরিষেবা প্রচার এবং মানব পাচারের চেষ্টার অভিযোগে ২৩৮টি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানব পাচার প্রতিরোধের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫৪ হাজার মামলায় স্বতঃপ্রণোদিত পরিদর্শন চালিয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই বিশাল অভিযানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জনগণের দেওয়া ১৫ হাজার ৫৬৩টি অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৯৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
