সরকার গঠনের মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগের ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে ও পার্বত্য অঞ্চলে তীব্র রাজনৈতিক আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা দাবি করেছেন, পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি; বরং জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে সুপারিশের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে তাঁর মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডাকসুর এই সদস্য এমন বিস্ফোরক দাবি করেন।
সর্বমিত্র চাকমা তাঁর বিবৃতিতে লেখেন, ‘ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি গতকাল সোমবার (১ জুন) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে গৃহীত হয়।’ সরকার গঠনের মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় এমন একজন সজ্জন ব্যক্তির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে।
পার্বত্যবাসী বিএনপির উপর আস্থা রেখেছিল উল্লেখ করে ডাকসুর এই সদস্য বলেন, ‘ফলস্বরূপ, পাহাড়ের তিনটি আসনেই বিএনপি বিপুল ভোটে জয় লাভ করে। রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) দীপেন দেওয়ান অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি এবং তিনি পাহাড়ের পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র।’
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের অফিসিয়াল কারণ হিসেবে ‘অসুস্থতা’ উল্লেখ করা হলেও তা মানতে নারাজ সর্বমিত্র। তিনি দাবি করেন, ‘স্রেফ জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে সুপারিশের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দীপেন দেওয়ানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাত্র তিন মাসের মাথায় তাঁর মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এভাবে মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়ার নজির দেশের রাজনীতিতে খুব একটা নেই। এই ঘটনার ফলে পার্বত্যবাসীর মনে তীব্র ক্ষোভ ও দাগ থেকে যাবে!’
এদিকে পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার এবং তাঁকে পুনরায় মন্ত্রিত্বে পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল সোমবার বিকেলেই রাঙামাটিতে তীব্র সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রতিবাদ সভা করেছে বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ। রাঙামাটি শহরের কাঁঠালতলী এলাকায় অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই ঝটিকা কর্মসূচি পালন করা হয়, যার ফলে স্থানীয় সড়কে যান চলাচল কিছুক্ষণের জন্য স্থবির হয়ে পড়ে।
একনজরে দীপেন দেওয়ানের রাজনৈতিক জীবন:
- ছাত্ররাজনীতি ও জুডিসিয়াল সার্ভিস: ৬৩ বছর বয়সি দীপেন দেওয়ান ছাত্রাবস্থায় সরাসরি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে পরবর্তীতে পরিবারের চাপে তিনি সপ্তম বিসিএসে (BCS) উত্তীর্ণ হয়ে জুডিসিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন।
- রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন: ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে তৎকালীন উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান দলত্যাগ করলে পাহাড়ে দলীয় যোগ্য নেতার চরম সংকট তৈরি হয়।
- চাকরি ত্যাগ: তৎকালীন সংকটময় মুহূর্তে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ২০ বছরের জুডিসিয়াল সার্ভিসের গৌরবময় চাকরি (যুগ্ম জেলা জজ পদ) স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়ে আবারও পাহাড়ি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফিরে আসেন দীপেন দেওয়ান।
