চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় আয়োজিত সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় এক অনন্য ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হলেন উপস্থিত সকলে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজ হাতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রবীণ আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর হাত ধরে তাঁকে মঞ্চে উঠতে সহায়তা করেন।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে জামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এর ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তা ব্যাপক প্রশংসা ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অশীতিপর প্রবীণ আলেম আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী মঞ্চে ওঠার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এগিয়ে গিয়ে তাঁর হাত ধরেন এবং পরম শ্রদ্ধায় তাঁকে মঞ্চে আসন গ্রহণে সহায়তা করেন। এই দৃশ্যটিকে রাজনৈতিক ও আলেম সমাজের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক সুন্দর সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের নিদর্শন হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা চলাকালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ৯ দফা দাবি সনদ পেশ করা হয়।

হেফাজতে ইসলামের পেশকৃত ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—

  • ১. ইসলাম অবমাননার বিচার: মহান আল্লাহ, বিশ্বনবী রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে কঠোর আইন পাস করা।
  • ২. শরিয়াহবিরোধী আইন রোধ: কোরআন ও সুন্নাহর মৌলিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন তৈরি বা পাস না করা।
  • ৩. শাপলা চত্বর ও গণহত্যার বিচার: ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে সংঘটিত নারকীয় হত্যাযজ্ঞে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী, হুকুমের আসামি ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।
  • ৪. দাওরায়ে হাদিসের মান কার্যকর: কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রির স্বীকৃতি বাস্তবে কার্যকর করে সরকারি ও বেসরকারি চাকরি এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারিত করা। বিশেষ করে সরকারি ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে কওমি ডিগ্রিকে মর্যাদা দেওয়া।
  • ৫. বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষা: প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সকল মুসলিম শিক্ষার্থীর জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
  • ৬. কাদিয়ানী ও হিজবুত তাওহিদ সংক্রান্ত: কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং ‘হিজবুত তাওহিদ’ নামক সংগঠনকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা।
  • ৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম সুরক্ষা: পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে দেশি-বিদেশি মিশনারিগুলোর রাজনৈতিক অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্র বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
  • ৮. আলেমদের মামলা প্রত্যাহার: বিগত সরকারের আমলে আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা ও রাজনৈতিক হয়রানি মূলক মামলা প্রত্যাহার করে তাঁদের রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়া।
  • ৯. তাবলিগ ও ইজতেমা কেন্দ্রিক দাবি: বাংলাদেশে তাবলিগ জামাত ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মূলধারার উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা নিশ্চিত করা; বিতর্কিত ভারতীয় বক্তা মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আগমনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং সাদের অনুসারীদের টঙ্গী ময়দানে ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হেফাজত আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং ধর্মীয় শিক্ষা ও ঐতিহ্য রক্ষায় আলেমদের ভূমিকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *