আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্কোয়াড্রন ঘাটতি পূরণে ফ্রান্সের কাছ থেকে আরও ১১৪টি সর্বাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার মেগা পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে ভারত। গত মঙ্গলবার (২ জুন) ভারত সরকার এ বিষয়ে ফ্রান্সের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব (Request for Information) পাঠিয়েছে বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত এই বিশাল চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে ভারতীয় বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী মিলিয়ে মোট রাফাল যুদ্ধবিমানের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭৬টিতে। ভারত ইতিমধ্যেই ফ্রান্সের কাছে এই যুদ্ধবিমানগুলোর দাম, উৎপাদন সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সহায়তার বিবরণ জানতে চেয়েছে। আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সাড়া পাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দরকষাকষি শুরু হতে পারে।
এই কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতার মধ্যেই ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং বর্তমানে ফ্রান্স সফরে রয়েছেন। সফরকালে তিনি রাফাল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘দাসো অ্যাভিয়েশন’ এবং ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা ‘এমবিডিএ’-সহ ফ্রান্সের শীর্ষ প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য কেবল সরাসরি যুদ্ধবিমান কেনা নয়; বরং প্রযুক্তি হস্তান্তর (Technology Transfer), যৌথ উৎপাদন এবং ভারতে আংশিক নির্মাণ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া। এই চুক্তির একটি বড় অংশ ভারতে যৌথ উৎপাদনের মাধ্যমে তৈরি হতে পারে, যা দেশটির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে অনুমোদিত ৪২টি স্কোয়াড্রনের বিপরীতে মাত্র ২৯টি স্কোয়াড্রন সক্রিয় রয়েছে। পুরোনো সোভিয়েত আমলের মিগ-২১ যুদ্ধবিমানগুলো ধাপে ধাপে অবসরে যাওয়ার কারণে এই বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই শূন্যতা পূরণে ১১৪টি নতুন যুদ্ধবিমান কেনার এই সিদ্ধান্তকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের একটি চুক্তির অধীনে ভারত এর আগে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছিল, যা বর্তমানে দেশটির বিমানবাহিনীতে কার্যকর রয়েছে। এছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য আরও ২৬টি রাফাল-এম (মেরিন) যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। নতুন ১১৪টি বিমান এই বহরে যুক্ত হলে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষায় ভারতের আধিপত্য বহুগুণ বেড়ে যাবে।
