‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, গণতন্ত্রের চর্চা এবং দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে রাজধানীর মিরপুর প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও গণতন্ত্র” শীর্ষক এ আলোচনা সভায় বক্তারা গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, জনগণের প্রত্যাশা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক নির্বাচিত এজিএস ও মিরপুর প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা, দৈনিক পাঞ্জেরীর সম্পাদক তালুকদার রুমী। সভাপতিত্ব করেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সবুজ বিপ্লব পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এস. এম. বদরুল আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক জনজাগরণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মো. শিহাব উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তালুকদার রুমী বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন, নিপীড়ন ও জনগণের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের পথ সুগম করেছে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও জনগণের কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সকল রাজনৈতিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে যারা নতুন নেতৃত্বের দাবিদার, বিশেষ করে এনসিপির মতো দলগুলোর আরও পরিপক্ব, দায়িত্বশীল ও বাস্তবমুখী রাজনৈতিক চর্চা করা প্রয়োজন।’
সভাপতির বক্তব্যে এস. এম. বদরুল আলম বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এই অর্জনকে ধরে রাখতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নের রাজনীতিই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।’
সঞ্চালকের বক্তব্যে মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল জনগণের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা। এই চেতনাকে ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সাংবাদিকদেরও সত্য, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ভূমিকা পালন করতে হবে।’
বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও গণমাধ্যমে ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা’ নিয়ে যে আলোচনা ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হচ্ছে, তা নতুন প্রজন্মের কাছে এ ঐতিহাসিক ঘটনাকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ও চেতনাকে সমুন্নত রেখে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস. এম. ইসলাম উকিল, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি নিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন মুন্না, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক দুলাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক এম. এ. গাফফার ও সেকেন্দার আলী, সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লা ও মানজারুল ইসলামসহ মিরপুর প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
