২৫ মার্চের পর আম আমদানি বন্ধ করল জাপান; জলবায়ুর আঘাত ও টোকিওর নিষেধাজ্ঞায় ভারতের আম বাজারে মহা বিপর্যয়
Featured, Latest, News, Popular, Trending, Weather #abongtv, #AlfonsoMango, #BangladeshNews, #JapanCustoms, #MangoExportCrisis, #VaporHeatTreatment, IndiaMangoBanদীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর ভারতের আম আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জাপান। দেশটির কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তারা ভারতীয় আমের পোকা নিয়ন্ত্রণ ও জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় মারাত্মক ত্রুটি পাওয়ার পর এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। জাপানের এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার কারণে চলতি মৌসুমে ভারতের প্রিমিয়াম জাতের আম— বিশেষ করে আলফোনসো, কেসর, ল্যাংড়া এবং বাঙ্গানাপল্লিসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় জাতের আম রপ্তানি এক বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়েছে।
জাপান তাদের নিজস্ব কৃষিখাতে ক্ষতিকর পোকামাকড়, বিশেষ করে ‘ফলমাছি’ (ফ্রুট ফ্লাই) এর আক্রমণ ঠেকাতে কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে থাকে। টোকিওর আশঙ্কা, ভারতীয় আমে এই ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি থাকলে তা জাপানের স্থানীয় কৃষি উৎপাদনের জন্য একটি বিশাল দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দুই দেশের আম রপ্তানি চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর আম রপ্তানি মৌসুম শুরুর আগে জাপানি কর্মকর্তারা ভারতের ‘ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট’ (VHT) কেন্দ্রগুলো সরাসরি পরিদর্শন করেন। যেখানে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই নিয়ন্ত্রিত গরম ও আর্দ্র বাতাসের মাধ্যমে আমের ভেতরে থাকা পোকা ও লার্ভা ধ্বংস করা হয়। চলতি বছরের মার্চ মাসে উত্তর প্রদেশের রেহমানপুরের একটি ভিএইচটি কেন্দ্রে পরিদর্শনে গিয়ে জাপানি কর্মকর্তারা এই পদ্ধতিতে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি খুঁজে পান। যদিও ঠিক কী ধরনের সমস্যা ধরা পড়েছে, সে বিষয়ে ভারত বা জাপান কোনো পক্ষই বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
এই ত্রুটি পাওয়ার পর জাপানের ইয়োকোহামা প্ল্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন চূড়ান্ত ঘোষণা দেয় যে, ২০২৬ সালের ২৫ মার্চের পর ইস্যু করা পরিদর্শন সনদযুক্ত (Inspection Certificate) ভারতীয় আমের কোনো চালান জাপান আর গ্রহণ করবে না।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় আম উৎপাদনকারী দেশ ভারত, যেখানে বছরে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়। এর বেশির ভাগ দেশীয় বাজারে বিক্রি হলেও জাপানের মতো উচ্চমূল্যের বাজারে রপ্তানি থেকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বেশি লাভ পান। কিন্তু এবার এই বাজার হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃতির চরম আঘাত লেগেছে ভারতের আম খাতে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের আলফোনসো আমচাষিরা আগেই চরম আবহাওয়া এবং এল নিনোর প্রভাবজনিত অনিয়মিত জলবায়ুর কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকার সমর্থিত কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, কিছু কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ফলনহানি ঘটেছে। এই চরম ফলন বিপর্যয়ের মধ্যে জাপানের আমদানি নিষেধাজ্ঞা ভারতীয় আম ব্যবসায়ীদের জন্য আরও বড় এবং দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে ফলমাছির ঝুঁকির কারণে ভারতীয় আমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো জাপান। পরে ভারত কঠোর মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করলে ২০০৬ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। তবে এবার আবারও ভারতীয় রপ্তানি ব্যবস্থার মান নিয়ে টোকিও প্রশ্ন তোলায় ভারতীয় রপ্তানিকারকরা আশঙ্কা করছেন, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে ভারতের কৃষিপণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর আন্তর্জাতিক আস্থা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে অন্যান্য আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
