কলকাতায় মুসলিম কিশোরীকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যা
Featured, Latest, News, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #BaruipurHorror, #KolkataCrime, #WestBengalPoliticsপশ্চিমবঙ্গের কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বারুইপুর অঞ্চলে ১১ বছর বয়সী এক মুসলিম কিশোরীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর খুন করার ঘটনায় পুরো পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ নিখোঁজ হওয়ার পরদিন রোববার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পুকুর থেকে ওই নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়৷ এই চরম ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর থেকে বারুইপুরসহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারুইপুরে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (পূর্ববর্তী ১৪৪ ধারা) জারি করে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে৷
ধর্ষণের মামলা রুজু ও এসআইটি গঠন: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে— গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে খাবার কেনা ও মাগরিবের নামাজের পর এক বন্ধুর জন্মদিন পালন করতে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ওই কিশোরী৷ রোববার সকালে পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধারের পর স্থানীয়রা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মূল অভিযুক্তকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়৷ আজ সোমবার (৬ জুলাই) প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পুলিশের হাতে আসার পর পূর্বের সাধারণ মামলার সাথে কড়া পকসো (POCSO) ধারায় গণধর্ষণ ও খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে৷ ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে রানিং তদন্তের জন্য পুলিশ প্রশাসন ৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘এসআইটি’ (SIT) গঠন করেছে৷ প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন— দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা হবে৷ এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার এবং অন্য ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ৷
বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও গণপিটুনিতে মৃত্যু: এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে চরম জনরোষ তৈরি হয়েছে৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ— ঘটনার পর রাতে বারুইপুর থানায় যোগাযোগ করা হলেও পুলিশ বিষয়টিকে মোটেও গুরুত্ব দেয়নি৷ পরবর্তীতে দোষী ব্যক্তি নিজে দোষ স্বীকার করলেও বারুইপুর পশ্চিম তিন নম্বর অঞ্চলের বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারি শান্তনু মণ্ডল নামের এক স্থানীয় বিজেপি নেতা অভিযুক্তকে আড়াল করার ও তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন৷ শান্তনু মণ্ডল স্থানীয়দের পুকুরের কাছে যেতেও বাধা প্রদান করেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে৷ এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ শুরু করে৷ একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতার রোষের মুখে পড়ে গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন এক যুবকের মৃত্যু হয়৷ বারুইপুর থানায় বর্তমানে তিনটি পৃথক রানিং মামলা দায়ের করা হয়েছে— যার একটি কিশোরী হত্যা, একটি পুলিশের ওপর হামলা এবং অপরটি অভিযুক্তকে পিটিয়ে মারার ঘটনায়৷
মমতা ব্যানার্জীকে গৃহবন্দির অভিযোগ ও শুভেন্দুর আশ্বাস: বারুইপুরের এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জী সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে এক নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়৷ গতকাল রোববার রাতেই তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েনসহ শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেন— মমতা ব্যানার্জীর কালীঘাটের বাড়ির সামনে ভারী পুলিশ ও ব্যারিকেড মোতায়েন করে তাঁকে অবরুদ্ধ ও গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে৷
তৃণমূল সংসদ সদস্য দোলা সেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— ‘মমতা ব্যানার্জীকে গৃহবন্দি করে রাজ্যে প্রায় জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে পুলিশ প্রশাসন৷’ যদিও রাজ্য সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ গৃহবন্দি করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে বলেছেন— মমতা ব্যানার্জীকে যাতে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ থেকে ডিম ছুড়ে না মারে, তাঁর সেই রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই রানিং পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন৷ এদিকে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার একটি দৃশ্য ফেসবুকে পোস্ট করে তৃণমূল নেতা ও সংসদ সদস্য অভিষেক ব্যানার্জী ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ফাঁসির দাবি করেছেন৷ অন্যদিকে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্যাতিতার পরিবারকে দ্রুত সুবিচারের কড়া আশ্বাস দিয়েছেন৷ আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নির্যাতিতার পরিবারটি রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সশরীরে দেখা করবেন বলে প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি জানিয়েছেন৷
মুসলিম সম্প্রদায়ের তীব্র ক্ষোভ ও দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ট্রিট: এই লোমহর্ষক ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের আগুন জ্বলছে৷ সম্প্রদায়ের একাধিক সদস্য ও প্রতিনিধি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন— রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুসলিমদের ক্রমশ দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে ট্রিট করা হচ্ছে৷ হিন্দু যুবকেরা মুসলিম নাবালিকাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর খুন করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার পর যখন মুসলিম সমাজ ন্যায়বিচারের দাবিতে সংঘবদ্ধ হচ্ছে, তখন উল্টো পুলিশ প্রশাসন মুসলিমদেরই দমন করছে ও পথ আটকাচ্ছে৷ ‘আমরা কি নিজেদের মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচারের দাবিও জানাতে পারব না?’— এমন রানিং ও তীব্র প্রশ্ন এখন পশ্চিমবঙ্গের আকাশ-বাতাসকে ভারী করে তুলেছে৷
