যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার খবরের মাঝেই গাজা উপত্যকায় সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আবারও প্রাণঘাতী ড্রোন ও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান এলাকায় চালানো একটি সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আল-শিফা হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা যায়, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এছাড়া এই হামলায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের চিকিৎসা চলছে।
এর আগে একই দিনে গাজা সিটির বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েক দফায় বিমান হামলা চালানো হয়। গাজা সিটির সাবরা এলাকায় পৃথক এক হামলায় এক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। অন্যদিকে মধ্য গাজার অত্যন্ত ব্যস্ত সালাহ আল-দীন সড়কেও হামলা চালিয়ে আরও একজনকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।
বারবার যুদ্ধবিরতির তাগিদ ও দাপ্তরিক আলোচনার কথা বলা হলেও কার্যত থামেনি দখলদার বাহিনীর আগ্রাসন। গত বৃহস্পতিবার সকালেও গাজা সিটির আল-কাতান শিশু কেন্দ্রের সামনে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের অস্থায়ী একটি তাবুকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। ওই নির্মম হামলায় একজন নিহত এবং নারী-শিশুসহ সাতজন মারাত্মকভাবে আহত হন। একই দিন শহরের আল-জালা সড়কে সাধারণ একটি বৈদ্যুতিক সাইকেলকে (ই-বাইক) টার্গেট করেও ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী ধারাবাহিকভাবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো উসকানি ছাড়াই সাধারণ বেসামরিক মানুষদের ওপর লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এসব হামলা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, বাস্তুচ্যুত ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর পরিচালিত এই ধরনের ধ্বংসাত্মক হামলা পরিষ্কারভাবে আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং সরাসরি যুদ্ধাপরাধের শামিল।
