চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ৩ বছরের শিশুকে গোডাউনে নিয়ে ধর্ষণ; গণপিটুনির হাত থেকে বাঁচিয়ে ঘাতক মনিরকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
Featured, Latest, News, Popular #abongtv, #BakliaThana, #BangladeshNews, #ChattogramNews, #ChildProtectionBD, #CrimeUpdate, #MonirArrestedচট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ার এক ঘনবসতিপূর্ণ শ্রমজীবী এলাকায় তিন বছরের এক অনূর্ধ্ব শিশু নৃশংস ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ডেকোরেশন কর্মী মো. মনিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মনিরকে গ্রেপ্তারের সময় বিক্ষুব্ধ জনতার সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ভোক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক এবং বাবা অটোরিকশাচালক। দরিদ্র কিন্তু অত্যন্ত শান্ত এই পরিবারের তিন বছরের একমাত্র কন্যাসন্তানটি ঘটনার সময় তার নানির ঘরে ঘুমাচ্ছিল। মা-বাবা দুজনেই তখন কর্মস্থলে ছিলেন। দুপুরে নানি পাশের রান্নাঘরে ব্যস্ত থাকার সুযোগে একই মহল্লার পরিচিত প্রতিবেশী মো. মনির শিশুটিকে খেলার কথা বলে ডেকে নেয়।
এরপর মনির শিশুটিকে পাশের একটি ডেকোরেশনের গোডাউনে নিয়ে যায়, যা দিনের বেলায় সাধারণত সুনসান ও ফাঁকা থাকে। পুলিশ জানায়, সেখানে নির্জনতা নিশ্চিত করেই ৩ বছরের ওই অবোধ শিশুটিকে ধর্ষণ করে মনির। পরে শিশুটির তীব্র কান্নায় নানি ছুটে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রতিবেশীদের সহায়তায় দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেয়ের পাশে ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে পোশাক শ্রমিক মা বলেন, “মেয়ে তো ঘুমাচ্ছিল। ওকে রেখে আমরা কাজে ছিলাম। কীভাবে এমন হলো… ভাবলেও গা শিউরে ওঠে।” অটোরিকশাচালক বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গরিব বলে কি আমাদের মেয়ের জীবন এত সস্তা? ও-ই তো আমাদের একমাত্র আশা ছিল।”
সাবে কুন্নাহার নামে এক প্রতিবেশী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মনিরের নিজের ঘরে স্ত্রী এবং দুটি ছোট ছোট মেয়ে রয়েছে। নিজের মেয়ে থাকা সত্ত্বেও অন্যের ৩ বছরের এই দুধের শিশুর সাথে সে কীভাবে এমন অমানুষিক কাজ করতে পারল!”
ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক মনিরকে ঘেরাও করে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান বলেন, “বিক্ষুব্ধ জনতা মনিরকে তাদের হাতে ছেড়ে দিতে বলেছিল। আমরা জনতাকে বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এর মাঝেই কিছু উশৃঙ্খল লোক পুলিশ ও পুলিশের যানবাহনের ওপর হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তবে সব বাধা পেরিয়ে আমরা মনিরকে সফলভাবে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে এসেছি।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত মনির ৩ বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার দায় এড়াতে সে দাবি করে, তাকে “শয়তানে পেয়েছিল”। এই ঘটনায় বাকলিয়া থানায় একটি কঠোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
