পুনেতে আবর্জনার পাহাড় ধসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু
Accident, Featured, Latest, News, Popular, Trending #abongtv, #BangladeshNews, #MaharashtraDisaster, #PuneLandfillCollapseভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে শহরের উপকণ্ঠে একটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন (ওয়েস্ট-টু-এনার্জি) কেন্দ্রে এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন ধসের ঘটনা ঘটেছে৷ অবিরাম ভারী বর্ষণের কারণে পাশের একটি ল্যান্ডফিলের হাজার হাজার টন বর্জ্যের বিশাল স্তূপ আকস্মিকভাবে ধসে কেন্দ্রের প্রশাসনিক ভবনের ওপর আছড়ে পড়লে অন্তত ৯ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন৷ কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যান্টনি ওয়েস্ট’ আজ সোমবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই রানিং ও শোকাবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে৷
প্রশাসনিক ভবনে তাণ্ডব ও উদ্ধার অভিযান: প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে— গত বুধবারের এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় ধসে পড়া আবর্জনার স্তূপের নিচে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে থাকা মোট ২৩ জন রানিং কর্মী তাৎক্ষণিকভাবে আটকা পড়েন৷ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং অবিরাম বৃষ্টির কারণে ল্যান্ডফিলটি সম্পূর্ণ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় এই বিপর্যয় ঘটে৷
ঘটনার পর পরই স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনী দ্রুততার সাথে উদ্ধারকাজ শুরু করে৷ তবে প্রবল ও দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়৷ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীদের ব্যাপক বেগ পেতে হয়েছে বলে প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে৷ দীর্ঘ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং অপর ১৪ জন কর্মীকে ভাগ্যক্রমে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে৷ বর্তমানে এই কেন্দ্রের কাঠামোগত নিরাপত্তা ও কারিগরি মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্ল্যান্টের সমস্ত রানিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন৷
বর্ষাকালীন বিপর্যয় ও এল নিনো-র রানিং প্রভাব: ভৌগোলিক ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন— ভারতে প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে ভবন, পাহাড় ও নির্মাণসংক্রান্ত এই ধরনের ধসের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে৷ দীর্ঘস্থায়ী ভারী বৃষ্টির কারণে পুরোনো ও দুর্বল স্থাপনাগুলো সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়৷
এদিকে, পরিবেশ বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে সতর্ক করে বলেছেন— বিশ্বব্যাপী চলমান জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে ভারতে চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো এখন আরও ঘন ঘন ও তীব্র আকার ধারণ করছে৷ পাশাপাশি চলতি ২০২৬ বছরে সম্ভাব্য শক্তিশালী ‘এল নিনো’ (El Niño)-র প্রত্যক্ষ প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির স্বাভাবিক আবহাওয়ার ধরনেও এক নজিরবিহীন ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে কঠোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদরা৷
