অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিরস্ত্র ও সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বর্বরতা ও পাশবিক নির্যাতনের আরও একটি নতুন রোমহর্ষক ও অকাট্য সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে৷ অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কয়েকজন ফিলিস্তিনি তরুণকে বহনকারী একটি সাধারণ প্রাইভেট কারের ভেতরে প্রকাশ্য দিবালোকে এক ইসরায়েলি সেনা কর্তৃক অত্যন্ত নৃশংসভাবে স্টান গ্রেনেড (Stun Grenade) নিক্ষেপের এই ভিডিওটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে৷ ভিডিওটি ফাঁসের পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসরায়েলি বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নতুন করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে৷
অস্ত্রের মুখে গাড়ি থামিয়ে বর্বরতা: প্রকাশিত ও ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য অনুযায়ী— ঘটনাটি ঘটেছে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের উত্তর দিকে অবস্থিত ঐতিহাসিক কালানদিয়া শরণার্থী শিবিরে (Qalandiya Refugee Camp)৷ ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা যায়— কয়েকজন তরুণ ফিলিস্তিনি একটি গাড়ি নিয়ে সাধারণ নিয়মে সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন৷ এমন সময় সেখানে কর্তব্যরত এক সশস্ত্র ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণ গায়ের জোরে ও অস্ত্রের মুখে চলন্ত গাড়িটিকে রাস্তার মাঝখানে থামতে বাধ্য করেন৷
গাড়িটি থামার সাথে সাথেই ওই সেনা কোনো কারণ ছাড়াই অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তাঁর কাছে থাকা একটি মারাত্মক স্টান গ্রেনেডের পিন খুলে গাড়ির খোলা জানালা দিয়ে ভেতরে ছুড়ে দেন৷
দরজা আটকে পুড়িয়ে মারার রানিং চেষ্টা: ভিডিওর সবচেয়ে জঘন্য ও হাড়হিম করা অংশে দেখা যায়— গ্রেনেডটি গাড়ির ভেতরে পড়ার পর পরই সেটি বিস্ফোরণের রানিং মুহূর্তে ফিলিস্তিনি তরুণরা চরম আতঙ্কে ও প্রাণভয়ে দ্রুত গাড়ি থেকে বের হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন৷ ঠিক ওই সময়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ইসরায়েলি সেনা অত্যন্ত অমানবিক ও পৈশাচিক কায়দায় গাড়ির চালকের পাশের দরজাটি নিজের হাত দিয়ে জোর করে বাইরে থেকে চেপে বন্ধ করে দেন, যাতে ফিলিস্তিনি তরুণরা কোনোভাবেই বাইরে বের হতে না পারেন এবং ভেতরেই গ্রেনেডের তীব্র আলো ও শব্দে মারাত্মক জখম হন৷
এই পাশবিক ঘটনার পুরো দৃশ্যটি পাশের একটি ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরায় নিখুঁতভাবে রেকর্ড হয় এবং পরবর্তীতে তা ইন্টারনেটে ফাঁস হয়ে যায়৷ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি রানিং ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় রানিং সন্ত্রাসের আরও একটি বাস্তব প্রমাণ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে৷
সূত্র: আলজাজিরা
