বিএসএফকে ১৪২ একর জমি হস্তান্তর করল শুভেন্দু সরকার।
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #BorderSecurity, #BSF, #IndiaBangladeshBorder, #SuvenduAdhikari, #WestBengalGovernmentপশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের এক মাস পার হতে না হতেই বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা ১৪২.৭৯ একর জমি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করেছে রাজ্য সরকার। এই জমিতে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া এবং বিএসএফের নতুন আউটপোস্ট (সীমান্ত চৌকি) নির্মাণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এক্স পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “সীমান্ত সুরক্ষায় আরও নিবিড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল বর্তমান রাজ্য সরকার। প্রাথমিক পর্বের পর আবারও বিএসএফকে নতুন পর্যায়ে জমি হস্তান্তর করায় মোট হস্তান্তরিত জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াল ১৪২.৭৯ একর। এই জমিতে বিএসএফ আউটপোস্ট ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের ফলে সীমান্ত এলাকা আরও সুরক্ষিত হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্য সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুযায়ী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে মোট ৬০০ একর জমি হস্তান্তর করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল, যা পূরণের পথে এই পদক্ষেপ একটি বিশেষ মাইলফলক।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া জেলাভিত্তিক খতিয়ান অনুযায়ী, রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ—সর্বত্রই এই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলেছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় সর্বোচ্চ ৩৮.৮০৫ একর ও জলপাইগুড়িতে ৩৫.১৬৫ একর জমি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও কোচবিহারে ২২.৯৫ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ২০.১৭০১ একর, মালদহে ১০.৯০ একর, দার্জিলিংয়ে ৮.৮১৫ একর, উত্তর দিনাজপুরে ২.৮৪ একর, উত্তর ২৪ পরগনায় ২.৬ একর এবং নদিয়ায় ০.৫৫ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
কয়েক দিন আগেই রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন নবান্নে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ অরক্ষিত সীমান্ত এলাকাকে সুরক্ষিত করতে এই জমি দেওয়া হচ্ছে।
পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের মোট ৪ হাজার কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে ২২০০ কিলোমিটার। দেশের বাকি রাজ্যগুলোতে বিএসএফের চাহিদামতো জমি দেওয়া হলেও এই রাজ্যে ২২০০ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র ১৬০০ কিলোমিটারে কাঁটাতার রয়েছে। বাকি ৬০০ কিলোমিটারে কাঁটাতার দেওয়া যায়নি। আগের রাজ্য সরকার চাইলেই এই জমি দিতে পারত, কিন্তু শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে তুষ্টিকরণের জন্য তা দেওয়া হয়নি। ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের বাকি কাজ সম্পন্ন করতে ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
